সরকারের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল নয় জনগণ, বললেন মির্জা ফখরুল

সিলেট থেকে: মঙ্গলবার বিকালে সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে আমাদের একজন ভোটারও ভোট দিতে পারেননি। অথচ সংবিধানে লেখা আছে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। স্বাধীনতার পরেও একই কায়দায় এই সরকার মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছিল।কারণ, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আর করে না বলেই একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। তাদের দুঃশাসনের সেদিন দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।’

‘আওয়ামী লীগ জনবিরোধী সরকার। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা দেশের সমস্ত অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এই লুটেরা সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে না।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, তাহলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হন।’

ফখরুল বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে তিনবার মঞ্চ ভাঙা হয়েছে। তারপরও সিলেটের মানুষের সাহসিকতার ফলে এই জনসভা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এই সভা করছি। এই সভা সফল করতে গতরাতে ১৭ জনকে বন্দি করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে সিলেটে ছাত্রদল একটি মিছিল করেছিল, সেই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্র যোগ দেন। সেজন্য ভয় থেকে গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ সমাবেশ করতে না দেয়ার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আসলে তারা জনগণকেই ভয় পায়।’

‘তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা আগের দিন রাতে ভোট চুরি-ডাকাতি করেছে। বন্দুকের জোরে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। সেই জন্য আমরা এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলি।’

তিনি বলেন, এই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একটা গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়েছে। সরকার হা বললে হা বলে না বললে না বলে।

বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করেছে সরকার, অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে তারা রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করেছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ন্যায়বিচার পান না। তাকে সাজানো মামলায় প্রহসনের বিচারে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রেখেছে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা এই দেশ থেকে লোপট করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এর কোনো বিচার নেই। কারা করবে এই বিচার? সরকারের সকল পর্যায়ের লোক দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িত।’

‘ক্যাসিনো অভিযানে যেই ধরা পড়ছেন, তাকেই বলা হচ্ছে বিএনপির লোক। যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেছেন, তার নেতাকর্মীরা অপকর্ম করেছেন, পুলিশ প্রশাসন কি ১২ বছর আঙ্গুল চুষছিল?’

ইলিয়াস আলী ছয় বছর ধরে নিখোঁজ উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আজকে শত শত পরিবার স্বজন হারানোর বেদনায় বেদনার্ত। তাদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে যখন বসি, তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। একজন নয়, দুজন নয় ৫০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলায় ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে।’

‘বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নের রোলমডেল। এখন ঘরে ঘরে ক্যাসিনোর জোয়ার বইছে। সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। বিদেশি কেউ বিনিয়োগ করছেন না। কারণ, এটা একটা লুটেরা দেশ। তারা মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা দুই বছর হয়ে গেলো, একজনকেও ফেরত পাঠাতে পারলো না। তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়