অনিশ্চিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জায়গা খুঁজতেই খরচ ১২০ কোটি টাকা

উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় এক দশকেও আলোর মুখ দেখেনি ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। সবশেষ শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচরে সক্ষমতা যাচাই করা হলেও পুনর্বাবাসন সংকটে সেখানেও করা যাচ্ছে না বিমানবন্দর। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

এ অবস্থায় ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এক দশকে শুধু বিমানবন্দরের জায়গা খুঁজতেই সরকারের খরচ হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। তবে, এ বছরের মধ্যেই বিমানবন্দর তৈরি জায়গা চ‚ড়ান্ত করতে চায় সরকার।
২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পরেই নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। শুরুতেই বাছাই করা হয় ময়মনসিংহের ত্রিশালকে। নীতিনির্ধারকদের বিরোধীতায় পরবর্তীতে আড়িয়াল বিলে জমি বাছাই করা হয়। তবে, স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সেখানেও বিমানবন্দর করা যায়নি।

পরে বিমানবন্দরের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয় জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়েইকে। শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারিপুরের শিবচরে জমি পাওয়া গেলেও দেখা দেয় ৮ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের বিশাল চ্যালেঞ্জ।

বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, কয়েকটি জায়গা পছন্দ করা হলেও সেখান থেকে প্রায় ৮ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করাতে হবে। এই বিশাল পরিবারকে উচ্ছেদ করা মানে অনেক বড় কাজ। কম সংখ্যক মানুকে উচ্ছেদ করে বন্দরটি নির্মাণ করতে চাই, প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি এ বছরের মধ্যেই শেষ করবো। যদি তা না হয় তাহলে, আমরা পছন্দ করবো নয়তো সরকার অন্য ধরনের চিন্তা করবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দর তৈরির জায়গা না পাওয়া গেলে শাহজালাল বিমানবন্দরে দ্বিতীয় রানওয়ে করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে পারে সরকার।

বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরের প্রস্তাবনায়, ৩টি রানওয়েতে প্রতিদিন ৪শ যাত্রীবাহী ও ২শ কার্গোবাহী ফ্লাইট ওঠা-নামার সুযোগ রাখা হয়েছে।
২০১০ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সম্পাদনা : মহসীন কবির