আ. লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা লুটপাটে জড়িত:ডা. এম এ সামাদ

কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য’র সমন্বয়ক ডা. এম এ সামাদ বলেছেন, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ও আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা লুটপাটে জড়িত।দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় দুর্নীতি লুটপাট করছে। রোববার রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. এম এ সামাদ বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন হয়নি তাই আইনের শাসন সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না। রাজনীতিতে ব্যবসায়ীরা ঢুকে পড়েছে৷ ছাত্র ও যুবনেতা নামধারীরা রাতারাতি ধনী হওয়ায় জন্য অনেক ধরনের অপকর্ম করছেন৷ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নই দুর্নীতির প্রধান কারণ। এছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতাই দুর্নীতি বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে নতুন করে জরিপ হলে বিশ্বের শীর্ষস্থানে থাকবে বাংলাদেশ। এদেশে মেম্বার অব পার্লামেন্ট বা এমপি হওয়া একটি লাভজনক ব্যবসা। ব্যবসায় লোকসান আছে, কিন্তু একবার এমপি হওয়া গেলে তিন পুরুষ ধরে অর্থ-বিত্তের আর কোনো অভাব হয় না। সামরিক শাসক এরশাদের আমলে এরশাদকে বাবা আর রওশন এরশাদকে মা- বেগম জিয়ার আমলে তারেক জিয়াকে ভাইয়া আর বর্তমানে শেখ হাসিনাকে আপা ডেকেই লুটপাট চালানো হচ্ছে। এরশাদের আমলে তার দলের নেতাকর্মীরা সারাদেশে লুটপাট চালিয়েছে, বিএনপির আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আর বর্তমান শাসক দলের নেতাকর্মীরা দেদারসে লুটপাট চালাচ্ছে।

বাম ঐক্য’র সমন্বয়ক বলেন, আশ্চর্যর বিষয় যখন যে দল ক্ষমতায় আসে পরাজিত দল, তাদের দখল বিজয়ী দলকে চোখের পলকেই ছেড়ে দিয়ে গা ঢাকা দেয়। শাসক বদল হয় কিন্তু লুন্ঠন চলতে থাকে ধারা বাহিকভাবে, আর লুটপাটের পরিমান ও ক্রমান্বয়ে বেড়ে সকল সীমা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়, সম্পদের সুষম বন্টন হ্রাস পায়, সামাজিক বৈষম্য বাড়ে, মানব উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ হয়, অপরাধ প্রবণতা বাড়ে, সামাজিক নৈরাজ্য; বঞ্চনা ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থাকা মানুষ দুর্নীতির কারণে সমাজে প্রান্তিকতর অবস্থানে আছে। দুর্নীতির কারণে মানুষ শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আপোসের সাথে জড়িত থাকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের দলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই নয়, ছাত্র রাজনীতিবিদরাও ধনী হয়ে যায়।