সেই ‘ক্যাসিনো’ ইয়ংমেন্স ক্লাবের চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন,কিন্তু মেনন যা বললেন

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ইয়ংমেন্স ক্লাবের নিষিদ্ধ জুয়ার কেসিনোতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এসময় ওই ক্যাসিনোর ভেতর থেকে ১৪২ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়।

বুধবার বিকেলে শুরু হয় অভিযানটি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

রাজধানীর ফকিরাপুলে ‘ক্যাসিনো’ চালানো ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।

তিনি দাবি করেছেন, এ ক্লাবের ভেতরে জুয়ার আসর বসতো এমন খবর তার জানা ছিল না। তিনি ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার ক্লাব হিসেবেই সেটাকে জানতেন এবং সেই কারণেই তাদের অনুরোধে চেয়ারম্যান হয়েছেন। তবে একবারের বেশি এই ক্লাবে যাননি তিনি।

বুধবার রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মেনন খান এসব কথা বলেন।

‘ক্যাসিনো’ চালানোর অভিযোগে এই ক্লাবের সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও আনুমানিক ২০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়টি উল্লেখ করা হলে রাশেদ খান মেনন কাছে দাবি করেছেন, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী সাব্বির এ ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক। হাজী সাব্বিরই তাকে ওই ক্লাবে নিয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ক্লাবটিতে র‌্যাবের অভিযান পরিচালনার পর দেখা যায়, এর একটি কক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ঝোলানো। এর বিপরীত পাশের দেয়ালে ঝোলানো রাশেদ খান মেননের ছবি। এছাড়াও একটি ক্রেস্ট প্রদান বা গ্রহণ করছেন তিনি এমন একটি ছবিও ঝুলছে সেখানে। আটককৃতদের একজন জানান, ওটা ক্লাবের চেয়ারম্যানের কক্ষ।

প্রথমে ক্লাবের চেয়ারম্যান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন মেনন। তবে সেখানে তার ছবি থাকার কথা উল্লেখ করা হলে এ তথ্য স্বীকার করেন তিনি। অবশ্য বলেন, ইয়ংমেন্স ক্লাব হিসেবে তিনি সেটাকে চেনেন না, এটাকে ফকিরাপুল ক্লাব হিসেবে তিনি জানেন।

তিনি বলেন, আমি জানি তাদের ফুলবল টিম আছে। ক্রিকেট খেলে। আমাকে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাজী সাব্বির সেখানে একদিন নিয়ে যায়। এবং বলা হয় আপনি ক্লাবের চেয়ারম্যান থাকবেন। আমি বলেছিলাম ‘ঠিক আছে। ব্যাস ওইটুকুই। আমি এরপর আর কখনও সেখানে যাইনি।’

ওই ক্লাবে এতসব কিছু হয় সেটা তার জানা ছিল না বলে প্রথমে উল্লেখ করেন মেনন খান। তিনি বলেন, ওটা তো ফুটবল ক্লাব, তারা ক্রিকেট খেলে। তাদের ফুটবল লিগ আছে। আর সেই ব্যাপারেই আমাকে নেওয়া হয়েছিল। আমি সেখানে একবারই গিয়েছি। এরপর সেখানে আমি যাইনি। আর জানিও না সেখানে কী হয়।

ক্লাবটির ভেতরে জুয়া খেলা হয় এমন কথা বলা হলে পরে তিনি বলেন, ‘সরকার আগে থেকেই এটার বিষয়ে জানে। পুলিশ জানে। পুলিশ তো এটা ভালো করেই জানে। তারা এতদিনে কিছু করেনি কেন?’

ইয়ংমেন্স ক্লাবে জুয়া খেলা বা মদের আসরের কোনও দায়দায়িত্ব তার ওপর বর্তায় না দাবি করে মেনন বলেন, আমি এটাকে জানি ফুটবল ক্লাব হিসেবে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করেছে। এটা একটি ভালো কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৯ জুন ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের ৩১ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এতে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সভাপতি ও হাজী মো. সাব্বির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ফকিরেরপুলের এই ক্লাবটির প্যাভিলিয়নে কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ওই নতুন কমিটি অনুমোদনের পাশাপাশি তৎকালীন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপিকে সর্বসম্মতিক্রমে ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
মেনন এব‍্যাপারে কি বলেন:
রাজধানীর ফকিরাপুলে ‘ক্যাসিনো’ চালানো ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তবে মেনন বলেন, ‘ক্যাসিনো সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, ক্যাসিনো চলছে কিনা তা দেখভাল করা গর্ভনিং বডির চেয়ারম্যানেরর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।’

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর সময় সংবাদকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বানানো হয়েছিল। এলাকার কোথায় কী ঘটছে তার খবর রাখার দায়িত্ব সংসদ সদস্যের নয়, পুলিশের।

এ সময় ওই ক্লাব থেকে পদত্যাগ করবেন কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জবাব দেন নি তিনি। এর আগে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইয়াংমেনস ক্লাব নামে ক্যাসিনোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালায় র‍্যাবের একটি দল। মতিঝিল থানার পাশেই অবস্থিত ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবটি ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার জন্য ক্রীড়ামোদিদের কাছে পরিচিত হলেও এই ক্লাবে ক্যাসিনোর আদলে বসতো জুয়ার আসর।

আটক ১৪২ জনের মধ্যে ১৬ জন স্টাফসহ ৩১ জনকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১১ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মদ, বিয়ার, ইয়াবা ও জুয়াখেলার ২৪ লাখ টাকাসহ ১০টি বাকারার জুয়া খেলার টেবিল এবং ৬টি ইলেকট্রনিক মেশিন, ডিজিটাল মেশিন জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সূত্র:দৈনিক আস্তা