আঁড়ি পাততে ইসরাইল হোয়াইট হাউজের কাছে ‘স্টিনগ্রে ডিভাইস’ বা গুপ্তচরবৃত্তির যন্ত্র বসিয়েছিল

মার্কিন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা নিশ্চিত করছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নজর রাখতে এবং তিনি টেলিফোনে কার সঙ্গে কখন কি বলেন তা আঁড়ি পাততে ইসরাইল হোয়াইট হাউজের কাছে ‘স্টিনগ্রে ডিভাইস’ বা গুপ্তচরবৃত্তির যন্ত্র বসিয়েছিল। এফবিআইও এবং অন্যান্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানালেও তিনি এজন্যে কোনো ব্যবস্থা নেননি। শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নন, এর আগেও এধরনের গুপ্তচর বৃত্তি চালিয়ে আসছে ইসরাইল এবং এ বিষয়টি সাবেক তিনজন সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দি পলিটিকো। পরিচয় গোপন রেখে পলিটিকোকে এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এটি নিশ্চিত যে এধরনের গুপ্তচরবৃত্তির জন্যে ইসরাইল দায়ী এবং দেশটি জড়িত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলী দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দেন এবং তা অস্বীকার করেন। ইসরাইলি দূতাবাসের মুখপাত্র এলাদ স্ট্রোমায়ের পলিটিকোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার দেশ কোনো প্রকার গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত বছর মার্কিন গোয়েন্দারা হোয়াইট হাউজের কাছে ওই স্টিনগ্রে ডিভাইসের সন্ধান পায়। এধরনের ডিভাইস ওয়াশিংটনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থান থেকেও উদ্ধার করে মার্কিন গোয়েন্দারা।

এরপরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিষয়টি জানার পরও তেল আবিবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। পলিটিকো’কে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’সহ তার ঘনিষ্ঠ সহকারীদের ওপর নজরদারি করার জন্যই সম্ভবত গুপ্তচরবৃত্তির যন্ত্রগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। তবে ইসরাইল এসব যন্ত্র স্থাপন করে কোনো তথ্য হাতিয়ে নিতে পেরেছে কিনা তা খবরে উল্লেখ করা হয়নি। এমনিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলেন না বলে দুর্নাম রয়েছে।

গত বছরের মে মাসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ডিসি’র বিভিন্ন স্থানে প্রথম এই গুপ্তচরবৃত্তির যন্ত্র খুঁজে পান। কিন্তু তারা তখন বুঝতে পারেননি কারা এগুলো স্থাপন করেছিল। পরে এফবিআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা বিস্তারিত ফরেনসিক গবেষণা চালিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন যে, ইসরাইলই এসব আঁড়িপাতার যন্ত্র বসিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ খবরকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এ বিষয়ক তদন্তে জড়িত মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তেল আবিবের এই দাবিতে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেছেন। তারা এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া দেখে হতাশ হয়েছেন। ওই প্রশাসন ইসরাইলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দূরে থাক ব্যক্তিগতভাবে তিরষ্কার করা থেকেও বিরত থেকেছেন।

পলিটিকো ২০১৮ সালের মে মাসে খবর দিয়েছিল, ট্রাম্প তার বন্ধু ও আস্থাভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তুলনামূলক অনিরাপদ সেল ফোন ব্যবহার করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস একই বছরের অক্টোবরে একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছিল, চীনা গোয়েন্দারা মাঝেমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেল- ফোনের কথাবার্তা আঁড়ি পেতে থাকে। তবে ট্রাম্প ওই প্রতিবেদনের খবরকে অস্বীকার করেন এবং কোনো পাত্তা দেননি।