ভাড়া করা ২টি বোয়িং অচল বসিয়ে রেখে ৪ বছরে প্রায় ৫শ কোটি টাকা ভাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান

মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে ভাড়া করা ২টি বোয়িং অচল বসিয়ে রেখে ৪ বছরে প্রায় ৫শ কোটি টাকা ভাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। এ কারণেই চাকরি হারিয়েছেন প্রকৌশল শাখার দুই কর্মকর্তা। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ৮:০০
এরইমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলী গাজী মাহম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

২০১৪ সালে মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে ড্রাই লিজে ৫ বছরের জন্য ২টি বোয়িং ট্রিপল সেভেন টু হান্ড্রেড ইআর মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ বিমান। সে বছর মার্চে প্রথমটি আর দ্বিতীয়টি যুক্ত হয় মে মাসে। তার এক বছরের মধ্যেই ইঞ্জিন বিকল হয় উড়োজাহাজ দুটির। তবে চুক্তিতে ৫ বছরের আগে ফেরত না দেয়ার শর্ত থাকায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিমান। এতে যাত্রী পরিবহন না করেও উড়োজাহাজ ২টির জন্য ইজিপ্ট এয়ারকে মাসে ভাড়া দিতে হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

এঘটনায় প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তাদের গাফিলতি পেয়েছে বিমানের তদন্ত কমিটি। আর এতেই প্রকৌশল শাখার পরিচালক খন্দকার সাজ্জাদুর রহিমের নিয়োগ বাতিল এবং প্রধান প্রকৌশলী গাজী মাহমুদ ইকবালকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয় মঙ্গলবারের বোর্ড সভায়।

বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, জিপ পেয়ারে যে দুটি ফেরত দেয়ার বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা ছিলো। তারা দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করতে পারতেন। যার কারণে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তে বিমানে অনিয়ম কমবে জানিয়ে বিমানের সাবেক পরিচালক কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, বিমান দুটি যে অবস্থায় আনা হয়েছে সে অবস্থায় ফেরৎ দেয়ার জন্য বিশাল অংকের টাকা খরচ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিমানের প্রকৌশল শাখার পরিচালক হিসেবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ পান খন্দকার সাজ্জাদুর রহিম। ২০১৭ সালের ২ মে থেকে ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকৌশল শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গাজী মাহমুদ ইকবাল। সম্পাদনা : রাজু আহ্সান