বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশন হচ্ছে, জানালেন আইনমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা উদঘাটনে কমিশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, এই কমিশনে কারা থাকবেন এবং এর কার্যপরিধি কী হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী খে হাসিনা। তবে কমিশনের আওতায় বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি।সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি জানান ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। আইন মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে মোশতাকসহ সকল খুনির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান তিনি।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর সব খুনির সম্পত্তি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। খুনিদের সম্পত্তি ব্যবহার করে তাদের উত্তরাধিকারেরা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু খুনের নেপথ্যের যে সকল নায়ক-খলনায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমানসহ যাদের বিচার করা সম্ভব হয়নি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত কমিশন দ্রুত গঠনের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত ও জাতির সামনে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের তিনজনের অবস্থান সঠিকভাবে জানা যায়নি। এটা অবশ্যই আমাদের সরকারের ব্যর্থতা। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী আয়োজনের আগেই যাদের অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে তাদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা পলাতক খুনিদের খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আর যে দুজনের অবস্থান জানা আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। নূর চৌধুরীকে কানাডা কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি। তবে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে তারা ফেরত দেয় না। তবে আমরা আশাবাদী, কূটনৈতিক ও আইনগত প্রচেষ্টায় আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আর রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে পজিটিভ কন্ডিশনে আছে। আমরা তাকেও ফিরিয়ে আনা নিয়ে আশাবাদী।’

সভায় বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়