শিক্ষক কর্তৃক ৫ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রমাণ মিলেছে

লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নবম শ্রেণির পাঁচ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার সন্ধ্যায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ আজ সাংবাদিকদের জানান।

অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটির প্রধান ও প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান জানান, ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। তদন্তকালে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকার দীর্ঘদিন ধরে ৯ম-১০ম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানের সামনের ঘরে প্রাইভেট পড়াতো। এ সুযোগে প্রায়ই ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষায় ফেল করে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে পাঁচ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে।

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ১৯শে আগষ্ট অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিচার চেয়ে পাঁচ ছাত্রী অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। এর পরের দিন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মো. মির্জা ফিরোজ হাসানকে প্রধানকে করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মাহাবুবুর রশিদ তালুকদার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের চীফ ইনস্ট্রাক্টর ইলেকট্রনিক্্র মো. আরিফুর রহমান ও লাভলী ত্রিপুরা।

উক্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেন দেন অধ্যক্ষ। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।