রোহিঙ্গাদের বাঙালি আত্মপরিচয় : আপন রক্ত বিস্মৃত না হও:মাসুদ রানা

ফিলিস্তিনিরা যেমন আরব, রোহিঙ্গারাও তেমনি বাঙালি। যে বাঙালি রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে স্বীকার করে না, নিজের রক্ত-বিস্মৃত হীনমন্য বাঙালি। বাঙালা সালতানাত মুঘলদের হাতে স্বাধীনতা হারালে তার প্রতিরক্ষা-ক্ষমতা হ্রাসিত হলে একসময়কার বাঙালার করদ-রাজ্যের মগেরা বাঙালা হানা দিয়ে অগণিত বাঙালিকে ধরে নিয়ে গৃহদাস ও ভূমিদাস বানিয়ে রাখে। আবার বাংলা থেকে ব্রিটিশেরা বার্মা জয় করে সেখানে আবাদের উদ্দেশ্যে অগণিত বাঙালিকে নিয়ে গিয়ে উপনিবেশ তৈরি করে। অনিচ্ছায় আরাকানে আনীত বাঙালিরাই রোহিঙ্গা, যাদের আধুনিক বাঙালি নিজের রক্ত বলে স্বীকার না করলেও তাদের বার্মার প্রতিক্রিয়াশীল সরকারি ও বেসরকারি নির্যাতকেরা বাঙালি বলে চিহ্নিত করেই গণহত্যা, ধর্ষণ ও বিতাড়ন করছে।

স্বজাত্যবোধসম্পন্ন বাঙালির উচিত তাদের ইতিহাসে লুণ্ঠিত, অপহৃত, ভাগ্যাহত ও সর্বোপরি আধা-আত্মবিস্মৃত ভাই-বোনদের চিনে নিয়ে তাদের হৃত বাঙালি আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারে সদরদ সাহায্য করা।নির্বাচিত মন্তব্য : এম আর করিম রেজা- রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আগেই দেশের নীতিনির্ধারকদের চিন্তা করা উচিত ছিলো। এখন এই বিশাল উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তা গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়াবে অবশ্যই। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার খরচ বহন করছে। তাদের জীবনযাত্রার বাকি খরচ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সংগ্রহ করছে। তারাই হয়তো রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো ব্যক্তি খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কারও নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে উঠা খারাপ নয়। তারা অশিক্ষিত, বার্মায় এদের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিলো না। তাদের মূল দাবি নাগরিকত্বের অধিকার বার্মা মেনে নেবে না সহজেই। সংগঠিত হতে পারলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। একসঙ্গে ১ মিলিয়ন অশিক্ষিত নেতৃত্ববিহীন মানুষ বসবাস করলে অরাজকতা সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাপনায় আরও কড়াকড়ি করা উচিত। সশস্ত্র আন্দোলন ছাড়া এরা দাবি আদায় করতে পারবে বলে মনে হয় না, তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেন তা ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। ফেসবুক থেকে