রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই এখন আমাদের কূটনীতির টপ প্রায়োরিটি হওয়া উচিত

রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়ার খরচটা তো দৃশ্যমান। কিন্তু রোহিঙ্গাদের রাখতে প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবলের পেছনে যে বাড়তি ব্যয়, তার কোনো হিসাব নেই। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও বিপুল ব্যয় হয়েছে। রোহিঙ্গার বসবাসের জন্য আশ্রয় ক্যাম্প বানাতে উজাড় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি। রোহিঙ্গারা যদি কখনো যায়ও, ভূমিটা হয়তো বাংলাদেশ ফেরত পাবে, কিন্তু বন পাবো কোথায়? সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করায় যে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে তা আসলে অমূল্য, টাকার অঙ্কে হিসাব করে লাভ নেই। তবু জাতিসংঘ হিসাব করেছে। ক্ষতির পরিমাণ শুনবেন, ৩৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ টাকা। কিন্তু এই পরিমাণ টাকা কেউ দিলেও কি আর হারানো বন বা জীববৈচিত্র্য ফিরে পাওয়া যাবে? তবে সব ক্ষতি টাকার অঙ্কে মাপা যায় না। রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি পাল্টে দিয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের চিত্রই।

স্থানীয় মানুষেরা এখন সংখ্যালঘু। রোহিঙ্গাদের জন্য জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে, মাদক চোরাচালান বেড়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের পাত্তাই দেয় না, বলে, আমাদের খাবার তো জাতিসংঘ দেয়, তোদের কে খাওয়ায়? শুধু মুখের কথায় ক্ষান্ত থাকলেও হতো। গত সপ্তাহেই এক যুবলীগ নেতাকে মেরে ফেলেছে রোহিঙ্গারা। তারা বেপরোয়া ধরনের মানুষ। শিক্ষা নেই। বছরের পর বছর নির্যাতিত হতে হতে তারা ডেসপারেট, তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই কঠিন। সব মিলিয়ে স্থানীয় মানুষদের জীবন এখন দুর্বিষহ। তাদের শঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে একদিন উখিয়া-টেকনাফ তথা কক্সবাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বোঝাই যাচ্ছে, মানবিকতার জন্য আমাদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে এবং হচ্ছে এবং হবে। আমি এখনো বলছি, বিপদে পড়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা ঠিক আছে। তাদের সম্মানের সঙ্গে রাখাটাও ঠিক আছে। কিন্তু তাদের প্রত্যেককে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেই চেষ্টাটাই করা উচিত। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা অবশ্যই মানবিক বাংলাদেশের বড় সাফল্য। কিন্তু তাদের নিরাপদে, নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে না পারলে আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই এখন আমাদের কূটনীতির টপ প্রায়োরিটি হওয়া উচিত। রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই পাকিস্তানিদের মতো আটকেপড়ার সুযোগ না পায়। এতো মানবতা দেখানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। (ফেসবুক থেকে)
প্রভাষ আমিন