শ্রম আইনের ধারণা না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক ও তাদের পরিবার

সারা দেশে প্রায় ১ কোটি পরিবহন শ্রমিক থাকলেও, শ্রম আইনের ধারণা নেই বেশিরভাগেরই। শ্রম আইন বাস্তবায়নে নেই সরকারের জোরালো কোনো ভূমিকা। ডিবিসি নিউজ ৯:০০

মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং প্রয়োগ না থাকায় শ্রমিকরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অধিকার থেকে, তেমনি এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না।

বেশিরভাগ পরিবহন শ্রমিকের নেই নিয়োগপত্র, নির্ধারিত বেতন, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মৃত্যুজনিত বা ঝুঁকি সহায়তা। এসব ছাড়াও শ্রম আইনের ন্য‚নতম অধিকার সম্পর্কেও ধারণা নেই তাদের।

পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, শ্রম আইন কি, এটা কবে পাস হয়েছে, এর সুবিধা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। নিয়োগপত্র দেয়া কিংবা বেতনভুক্ত করা এসব নিয়ে মালিকপক্ষ কখনও কিছু বলেনি আমরাও কখনও মাথা ঘামাইনি। ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তবে, ৮ ঘণ্টা গাড়ি চালালে চাকরি থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন পরিবহন শ্রমিকরা।

শ্রম আইন না মানার বিষয়ে একে অপরের পাশাপাশি সরকারকে দুষছে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেয়ার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক কোনো বাধা নেই। চালক ও শ্রমিকরা ইচ্ছাকৃতভাবেই নিয়োগপত্র নেয় না। পরিবহন শ্রমিকরা ভাবেন নিয়োগপত্র নিলে তারা ঐ কোম্পানি থেকে বের হতে পারবেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন হলেই শুধুমাত্র শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বিষয়টা তা না। শৃঙ্খলার জন্য সরকারের এবং মালিকপক্ষের আন্তরিকতার প্রয়োজন।

পরিবহন খাতে আগের চেয়ে নৈরাজ্য কমেছে বলে দাবি করেছেন শ্রম সচিব একে এম আলী আজম। তিনি বলেন, সেবা বা অফিসকে বিস্তৃত করতে পারি তাহলে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরালো হবে। সেক্ষেত্রে, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।

শ্রম আইনের বাস্তবায়ন হলে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ। তিনি বলেন, মালিক এবং পরিবহন শ্রমিকদের যে সংগঠন রয়েছে তারাও কিন্তু এ বিষয়ে কখনও কিছু জানায় না বা জোর ভ‚মিকা পালন করে না। যার কারণে, দেখা যায় দুর্ঘটনার পরে চালক বা শ্রমিকরা কোনো আর্থিক সুবিধা পায় না। ফলে, দুর্ঘটনা যেমন বাড়েছে তেমনি বিশৃঙ্খলাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সবশেষ তথ্য মতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৮৫৭ জন চালক নিহত হয়েছে। শ্রম আইনের ১৯ ও ১৫০ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুজনিত সুবিধা পাওয়ার কথা ছিলো নিহতদের পরিবারের। কিন্তু ৫ ধারা মতে প্রাথমিক শর্ত নিয়োগপত্র না থাকায় কোনো সুবিধাই পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা। সম্পাদনা : রাজু আহ্সান/রাশিদ