কলকাতায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় নতুন মোড়, ক্ষোভ ঝাড়লেন মমতা

চোখের ডাক্তার দেখাতে গিয়ে কলকাতা থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন মঈনুল ও তানিয়া নামের দুই বাংলাদেশি। শুক্রবার মধ্যরাতে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের কাছে গাড়িচাপায় মৃত্যু হয় তাদের।

রোববার (১৮ আগস্ট) বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে স্বজনদের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

শুক্রবার গভীর রাতে একটি পুলিশ পোস্টে আশ্রয় নেয়া মঈনুল ও তানিয়াকে চাপা দিয়ে চলে যায় তীব্র গতিতে ছুটে চলা একটি জাগুয়ার। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

তীব্র গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আরসালান পারভেজ নামের এক শিল্পপতির ছেলেকে।

কিন্তু সে ঘটনার পাঁচ দিন যেতে না যেতেই ভিন্ন বার্তা জানালো কলকাতা পুলিশ। বলতে গেলে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেছে তদন্তের মোড়।

ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ জানাচ্ছে, গ্রেফতার সেই আরসালান পারভেজ দুর্ঘটনার রাতে নাকি গাড়িতেই ছিলেন না। সে রাতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তার বড় ভাই রাঘিব পারভেজ।

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা বলছে, শুক্রবার রাত ১১.৩০ মিনিটে বাড়ির গ্যারেজ থেকে ঘাতক জাগুয়ারটি বের করেন রাঘিব, আরসালান নয়। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এটাই বলছে।

তারা আরও জানান, ওই দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে তার মামা মহম্মদ হামজার সঙ্গে কথা বলেন রাঘিব। পুলিশ যখন আরসালানকে গ্রেফতার করে সেই ফাঁকে পরদিন হামজার সাহায্যে দুবাই পালিয়ে যান রাঘিব।

দুর্ঘটনাস্থলে জাগুয়ার থেকে বের হওয়া ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে আরসালানের নয়, রাঘিবের মিল পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

এদিকে ঘটনার মোড় এভাবে ঘুরে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় শহর দিঘা সফরের গিয়ে সেখানে প্রশাসনিক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় খোলায় তিনি তদন্তকারীদের এক হাত নিয়ে বলেন, অ্যাকসিডেন্ট করল একজন আর অন্যচনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নানা চালাকি চলছে এখানে, এই তো দেখছি।

তিনি যোগ করেন, অপরাধীকে না ধরে রেহাই দিয়ে অন্য কাউকে আত্মসমর্পণ করানো বেআইনি।

এভাবেই পুলিশেরর ভূমিকায় অসন্তোষপ্রকাশ করেছেন মমতা। এসময় বেপরোয়া গাড়ি চালানো কখনই মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে মমতা বলেন, সড়কে যারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় তাদেরকে কোনো জরিমানা নয়, সরাসরি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মমতার এমন বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা কলকাতায়ও। আচমকা এমন নাটকীয় মোড় বদলে যাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

প্রশ্ন উঠেছে, পাঁচদিন ধরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ পুলিশ এখন জানলো যে, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি নন, গাড়ি চালাচ্ছিলেন অন্য কেউ!

সে রাতে ঘাতক জাগুয়ার ৭ বার সিগন্যাল অমান্য করেছিল তার প্রমাণ মিললেও গাড়িচালকের বিষয়টি এমন রহস্যময় ছিল পুলিশের কাছে!

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, দোষী না হয়েও আরসালানকে কেন পরের দিন কেন আত্মসমর্পণ করালো তার পরিবার?

এসব প্রশ্নের নেপথ্যে কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে কিনা আপাতত সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে কলকাতারা গোয়েন্দারা।

মমতার কটাক্ষ ও কলকাতাবাসীর এমন সব প্রশ্নের মুখেই বুধবার রাঘিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুবাই থেকে ফেরার পথে বেনিয়াপুকুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হয়েছেন রাঘিবের মামা মহম্মদ হামজাও।