সিপিবি,র সায় ছিলনা বাকশালে,সংবিধান রক্ষার জন‍্য যোগ দিয়েছিল: সেলিম

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গতকাল ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এ বিষয়ে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে আমাদের নতুন সময়ের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় ‘বাকশাল গঠন না করার কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন দলের পক্ষ থেকে?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘মনি সিংহ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আবদুস সালাম উনারা বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল গঠন না করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শোনেননি। ফলে সংবিধান পরিবর্তন করে যখন বাকশাল গঠন করা হলো তখন কৌশলগত কারণে আমাদের দলও যোগ দেয়। না দিলে সংবিধান রক্ষা করা যেত না।’

পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, ‘একদিকে বাকশালে যোগ দিলো আপনাদের দল সংবিধান রক্ষার নামে। অন্যদিকে দলের অস্তিত্ব ধরে রাখলেন এই দ্বৈতনীতির ব্যাখা কি?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘সবই রণকৌশল। একবার আমিনুল ইসলাম নামের এক লোকের সাথে অনিল মুখার্জির চেহারার মিল খুঁজে পেয়ে অনিল মুখার্জিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। অনিল মুখার্জি জানতেন যে তার চেহারার সাথে আমিনুল ইসলামের মিল। পুলিশও আমিনুল ইসলামকে চিনতো। কিন্তু অনিল মুখার্জিকে চিনতো না। ফলে পুলিশের কাছে অনিল মুখার্জি তখন বললেন যে তিনি আমিনুল ইসলাম। পুলিশ তাকে ছেড়ে দিলো। অথচ পুলিশ অনিল মুখার্জিকেই খুঁজছিল।’

‘কিন্তু সিপিবি এতো দেরিতে ১৯৮০ সালের কংগ্রেসে কেন এসব পর্যালোচনা করল, আগে নয় কেন?’ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এর আগে অনুকুলে ছিলো না।’

‘তাহলে এ বিষয়ে হঠাৎ করে এখন কেন আবার মুখ খুললেন? পরিস্থিতি এখন অনুকুলে? জবাবে তিনি বললেন, ‘আমরা বাকশালে যোগ দিয়ে অনেক সমালোচিত হয়েছি। এখন বলবার সময় এসেছে।’

এ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১৯৭৫ সালে সিপিবি ‘একদলীয় ব্যবস্থা’ তথা ‘বাকশাল’ গঠন না করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি পার্টির পরামর্শ গ্রহণ করেন নি।এমতাবস্থায়, ‘বাকশাল’ গঠিত হয়ে যাওয়ার পরে পার্টিকে প্রকাশ্যে ‘বিলুপ্তির’ ঘোষনা দিতে হলেও আসলে পার্টি বিলুপ্ত করা হয়নি। খুবই গোপনে, অনেকটা সংকুচিত আকারে, পার্টির অস্তিত্ব ও তার কাঠামো বহাল এবং সক্রিয় রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্বাভাবিক কারনেই সেকথা প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি অনেক পার্টি সদস্যকেও সে বিষয়টি অবগত করে ওঠা সম্ভব হয়নি। গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ধীরে-ধীরে পার্টি কাঠামো সম্প্রসারিত করা হচ্ছিল। আমি কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলাম না। ঢাকা জেলা কমিটির ১৯/২০ জনের মধ্যে আমি সহ ১০/১২ জন এবং কমিটির বাইরে আরো সম্ভবতঃ ২০/২৫ জনকে নিয়ে গোপনে ‘হার্ড কোর’ কাঠামো বজায় রাখা হয়েছিল। বাকশাল গঠনের পর এগুলো কার্যকর হয়। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩/৪ মাস এই অবস্থা বজায় ছিল। আমরা ৩/৪ জনের গ্রুপ করে ভাগহয়ে ১/২ বার বৈঠক করেছি। কেন্দীয় কমিটি ও অন্যান্য জেলা কাদেরকে নিয়ে ও কিভাবে সংগঠিত রাখা হয়েছিল তা আমার জানার কথা ছিল না।এরকম একটা ‘হার্ড কোর’ আগাগোড়া গোপনে সংগঠিত ছিল বলেই ১৫ আগস্টের পর সব পার্টি সদস্যদেরকে তাই দ্রুত পার্টি কাঠামোতে সংগঠিত করা সম্ভব হয়েছিল। ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত সিপিবি-র তৃতীয় কংগ্রসের দলিলে এ নিয়ে পর্যালোচনা আছে।’