শেখ সেলিমের সঙ্গে তার বিরোধের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জানেন:কেএম শফিউল্লাহ

‘শেখ সেলিমের সঙ্গে খন্দকার মোশতাকের ভালো যোগাযোগ ছিলো।খন্দকার মোশতাক সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি গণভবনে গিয়েছিলেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ওইদিনই তিনি মার্কিন দুতাবাসে গিয়েছিলেন।’ এমন দাবি সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ’র। ‘তার মানে আপনি কি বলতে চান ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সঙ্গে শেখ সেলিম জড়িত ছিলেন’-এর উত্তরে শফিউল্লাহ বলেন, ‘না , আমি সেটি বলছি না। অতীতেও এ নিয়ে উনার সাথে বাহাস হয়েছে। তবে তিনি জড়িত বলিনি। তার ভুমিকা সেসময় কেমন ছিলো সেটি অতীতেও জানিয়েছি। আজও জানালাম।’

‘শেখ সেলিমের বিষয়ে যা বলছেন সেসব কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কখনো বলেছেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বলেছি। প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন। আমার কোনো অন্যায় থাকলে তো দল থেকেই বহিস্কার করতেন। তিনি তার বাবার মতোন অনেক বড়ো মনের মানুষ। তবে প্রথম যখন শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয় তখন বলিনি। তখন পরিস্থিতি এমন ছিলোও না। তবে পরে বলেছি।’

শেখ সেলিমের সঙ্গে তবে আপনার বিরোধটা কোন জায়গায়?’-্এর জবাবে শফিউল্লাহ বলেন,‘১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের ঘটনা নিয়ে তিনি আমার ভুমিকাকে বিতর্কিত করেন। যেটি ঠিক না। তিনি এখনও আমার পেছনে লেগে আছেন। আমার ভালো চান না। অথচ ১৯৯১ সালে শেখ হাসিনা আমাকে যখন আওয়ামী লীগে যোগদান করার অনুরোধ করেন তখন আমি তাকে বলেছিলাম ,আমি যোগ দেওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- সম্পর্কে যা জানি সব বলতে চাই। তিনি আমার সব কথা শোনেন। এরপর আরও দুবার বৈঠক হয় তার সঙ্গে। পরে শেখ হাসিনা সব জেনেশুনে আমাকে যোগ দিতে বললে আমি আওয়ামীলীগে যোগ দেই। পরে দলের এমপিও হই। শেখ হাসিনা ৭৫ এ ১৫ আগস্টে আমার যে অসহায়ত্ব ছিলো সেটি বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু শেখ সেলিম ব্লেইম গেইম করেন।

‘একই দল করেন, অথচ এতো বড়ো বিরোধ আপনাদের মধ্যে,আর কি কোনো কারণ আছে?জানতে চাইলে শফিউল্লাহ চুপ থাকেন কিছুক্ষণ।এরপর বলেন, ‘ওই হত্যাকা- নিয়েই আমার বিরুদ্ধে শেখ সেলিমের অভিযোগ। এর বেশি আর কি বলবো?