আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ার আশংকা

জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে দুইভাগে ভাগ করার ভারতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ঘোষণা করেছে কাশ্মিরের বিতর্কিত দাবিদার এবং নিকটতম প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তান। কাশ্মিরের জনগণের সঙ্গে তারা একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

এদিকে, কাশ্মিরীদের সহায়তায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান। ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চীনের দাবি, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ হয়েছে দিল্লির এমন সিদ্ধান্তে।

দিল্লির সিদ্ধান্তে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন কাশ্মিরের সাধারণ মানুষ। মোবাইল ইন্টারনেটে কঠোর সেন্সরশিপ এবং কারফিউ জারির মাধ্যমে সেখানে আসলে ঠিক কী ঘটছে, তা জানতে পারছে না বিশ্ব।

এদিকে, রাজ্যসভা ও লোকসভায় জম্মু-কাশ্মিরের পুনর্গঠন বিল পাসের পর এবার পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরকেও নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করতে শুরু করেছে ভারত।

এদিকে এ দুটি দেশকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। পাকিস্তানের নেপথ্য সহায়ক পরাশক্তি হিসেবে যেমন রয়েছে চীন, তেমনি ভারতের দাপটের নেপথ্যেও মদদদাতা হিসেবে রয়েছে শীর্ষ পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ।

আশংকা, এ পরিস্থিতিতে চরম সর্বনাশ নেমে আসবে উপমহাদেশে দুই শ কোটির বেশি মানুষের জানমালের ওপর।

কাশ্মিরে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির পর কারাগার বানিয়ে ফেলেছে ৭ লাখের বেশি ভারতীয় বাহিনী। অস্থায়ী কারাগারে রূপ নিয়েছে প্রতিটি হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর। এসব কারাগারে ঠাঁই নিয়েছেন সেখানকার গ্রেপ্তার হওয়া অর্ধসহস্রাধিক রাজনীতিক, উপদেষ্টা ও স্বাধীনতাপন্থি নেতা।

কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ভারতের নিরাপত্তার জন্যই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের দখল নেয়া প্রয়োজন। কেননা, অধিকাংশ জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ও ঘাঁটিগুলোর অবস্থানে সেখানেই। এমন পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের অস্থিরতা বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব