কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে চীন!

বেইজিংয়ে পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত বৈঠকে পাকিস্তানকে তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে চীন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বেইজিংয়ের ওই বৈঠকে, কাশ্মীরের ‘দ্রুত অবনতিশীল’ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নয়াদিল্লিকে তার নীতিমালা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’

যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে, পুলওয়ামা হামলায় সৃষ্ট উত্তেজনা দমনে এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের বিষয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন চীনের রাজ্য কাউন্সিল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি।

এমনকি জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দেওয়া মাসউদ আজহারের ওপর চীনের প্রযুক্তিগত নজরদারি রয়েছে বলেও জানিয়েছে চীন। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে চীন।

এছাড়াও ওয়াং ইয়ি আরও বলেন, এই অঞ্চলে পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন পাকিস্তানকে তার স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও মর্যাদাকে সমর্থন করে এবং সমর্থন করবে।

চীন সবসময় বিশ্বাস করে যে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এই অঞ্চলের যৌথ স্বার্থে রয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান ও ভারতকে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াং।

আগুন নিয়ে খেলা করবেন না; কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে এরদোগানের হুংকার!

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ঘোষণার পরেই দুই পরমাণু শক্তিধর চির বৈরী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার কাশ্মীরের বিশেষ-

মর্যাদা বাতিলের দুদিন পর কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করেছে পাকিস্তান। বুধবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি) এ সিদ্ধান্ত নেয়।

এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ডন। বৈঠকে নয়াদিল্লি থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়ার এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শাহ মাহমুদ কোরেশী বলেন, আমাদের রাষ্ট্রদূতরা আর নয়াদিল্লিতে থাকবেন না এবং এখানকার রাষ্ট্রদূতদেরও ফেরত পাঠানো হবে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে শীর্ষ নিরাপত্তা কমিটির-

বৈঠকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন ও আগামী ১৪ আগস্ট কাশ্মীরিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আসন্ন স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়,

ভারতীয় নির্মম বর্ণবাদী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশের জন্য সমস্ত কূটনৈতিক চ্যানেলকে সক্রিয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করে। ৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা।

যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত বিষয়। বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত ওই রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করতে পারে না। কাশ্মীরি জনগণ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।