৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে বিশ্ব-মিডিয়ায় জল্পনা তুঙ্গে

জম্মু ও কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারায় বিশেষ মর্যাদা খারিজ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিভিন্ন প্রেক্ষিত ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা এবং পূর্বাভাসে বিশ্বের সংবাদসংস্থাগুলো ব্যাপক সমালোচনা করে। বিবিসির মতে, জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে সরকারের এই পদক্ষেপ ‘এযাবৎকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূণ’। বিবিসি বাংলা বলেছে, মুসলিম প্রধান কাশ্মীরের চরিত্র বদলানই কি মূললক্ষ্য? সিএনএন জানিয়েছে, ওই অঞ্চল শাসনের বিষয়ে ‘চাঞ্চল্যকর পরিবর্তন’ আনতে চলেছে মোদী সরকার। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলেছে, সাংবিধানিক এই পরিবর্তন উপত্যকায় ‘নতুন সংঘাতের বাতাবরণ সৃষ্টি’ করেছে। ভারতের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের সংবাদসংস্থা ‘ডন নিউজ’।

লন্ডনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘কাশ্মীরের অবস্থান সম্পর্কে এ যাবৎ সরকারি পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।’ জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দ্বিখ-িত করার সিদ্ধান্ত ‘নাটকীয় পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছে এই সংবাদসংস্থা। এর জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটতে পারে বলেও সংবাদসংস্থার তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর জেরে জম্মু ও কাশ্মীরে সরকারকে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে বলেও পূর্বাভাস করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসির মতে, জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে সরকারের এই পদক্ষেপ ‘এযাবৎকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূণ’’। তাদের রিপোর্টেও মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের জেরে উপত্যকায় প্রবল অস্থিরতা দেখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে বর্তমানে ‘চূড়ান্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’ দেখা দিয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, ওই অঞ্চল শাসনের বিষয়ে ‘চাঞ্চল্যকর পরিবর্তন’ আনতে চলেছে মোদী সরকার। একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাজ্যের অবস্থান পরিবর্তন ঘোষণা করায় অচলাবস্থায় কাশ্মীর’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক সদস্যকে বিবৃত করে জানানো হয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ কাশ্মীরিদের কাছে ‘মানসিক আঘাত’।

ওয়াশিংটন পোস্ট এর প্রতিবেদনে বলেছে, সাংবিধানিক এই পরিবর্তন উপত্যকায় ‘নতুন সংঘাতের বাতাবরণ সৃষ্টি’ করেছে। সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারাকে এই প্রতিবেদনে ‘ভারতে কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এর জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদসংস্থা ‘ডন নিউজ’। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রপতির হঠকারিতামূলক নির্দেশ’ বলে তাদের প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কাশ্মীরিদের আশঙ্কা, এর জেরে ওই মুসলিম অধ্যুষিত ওই অঞ্চলে হিন্দুদের প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে।’ শুধু তাই নয়, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করার ‘সুদূরপ্রসারী প্রভাব’ দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ‘দ্য ডন’ পত্রিকার নিবন্ধে।