জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহসহ ৩ নেতা গৃহবন্দী

এমন সময় এই ঘটনা ঘটলো যখন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুধু মুফতি বা আবদুল্লাহ নন, একই ধরণের ঘটনার শিকার হয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্স-এর চেয়ারম্যান সাজ্জাদ লোন।সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে কেন্দ্র সরকার। স্কুল কলেজ সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিসেবাও বন্ধ। এনডিটিভি, দ্য হিন্দু।

টুইটারে ওমর আদুল্লাহ লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্য প্রধান নেতারাও এই ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আমি চাই না এটি সত্য হোক। তবে সত্য হলে ভয়ের কারন আছে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।’

টুইটের মাধ্যমে নিজের গৃহবন্দীত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহবুবা মুফতিও। মুফতি লিখেছেন, ‘কতটা প্রহসনের বিষয়, আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যারা শান্তির পক্ষে লড়ছি, তাদের গৃহবন্দী করা হয়েছে। বিশ্ব দেখছে কিভাবে মানুষ ও তাদের কণ্ঠস্বরকে এখানে পদদলিত করা হচ্ছে। যেই কাশ্মীর অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক ভারতকে বেঁছে নিয়েছিলো, তারা আজ আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে ভয়ানক ভাবে।’

এদিকে ওমর আব্দুল্লাহর টুইট রিটুইট করে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা শশী থারুর। থারুর লিখেছেন, ‘তোমরা একা নও ওমর আবদুল্লাহ। প্রতিটি গণতান্ত্রিক ভারতীয় কাশ্মীরের মূলধারার রাজনীতিবীদদের জন্য উঠে দাঁড়াবে। সরকার আমাদের দেশের জন্য যাই ঠিক করুক কিছু যায় আসে না। পার্লামেন্ট সেশন এখনও চলছে। আমাদের আওয়াজ দাবিয়ে রাখা যাবে না। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি টইিটবার্তায় থারুর লিখেন, ‘জম্মু কাশ্মীরে আসলে কী হচ্ছে। কোনো কিছু না করেও কেনো নেতারা রাতারাতি গৃহবন্দী হলেন। কাশ্মীরিরা আমাদের নাগরিক এবং তাদের নেতারা আমাদের অংশীদার। অবশ্যই মূল ধারার ব্যক্তিদের বাইরে রেথে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মোকাবেলা করা যায়না। আমরা তাদেরই বাদ দিয়ে দিলে বাকি থাকে কে?’

এর আগে মেহবুবা মুফতির ডাকে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেন কাশ্মীরি নেতারা। এসময় ওমর আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, কোনো ব্যক্ষা ছাড়াই সরকার আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মেনে নিতে রাজি আছি, অমরনাথ যাত্রা বাতিলের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কিন্তু এতে মাচাইল যাত্রা আর বুঢ্ঢা অমরনাথ যাত্রা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা হয় না। এতে এই ব্যাখ্যা নেই, কোনো পর্যটকদের হোটেল থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হলো। মানুষকে জোর করে হোটেল থেকে বের করে বলা হচ্ছে সবাইকে কাশ্মীর ছাড়তেই হবে।’

এর আগে, কাশ্মীরে হঠাৎ উত্তেজনা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। গতকালের বৈঠকে অজিত দোভাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, গোয়েন্দা প্রধান অরবিন্দ কুমার, ‘র’-এর সামন্ত গোয়েল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গউবা সহ অনেকেই। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় হওয়া জঙ্গি হামলার মতোই খুব বড় কোনো জঙ্গি হামলার ছক কষেছে। বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। গত সপ্তাহ থেকেই গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে মোট ৩৫ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় গত শুক্রবার পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীর ছেড়ে যাওয়ার জন্য ‘অ্যাডভাইজরি’ জারি করে জম্মু কাশ্মীর রাজ্য প্রশাসন। তার আগে সেনা জানায়, জইশ-ই-মুহাম্মদের জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছে জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাহায্যে বড়সর হামলার ছক কষেছে তারা। উদ্ধার হয় একটি ল্যান্ডমাইন ও টেলিস্কোপ লাগানো মার্কিন এম-২৪ রাইফেল। ল্যান্ডমাইনের ছাপ দেখে সেটি পাকিস্তানে তৈরি বলে দাবি করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পুরো বিষয়টিকেই কেন্দ্রের সাজানো বিষয় বলে দাবি করেছেন মেহবুবা মুফতি। রাজ্যের প্রায় সর্বত্র চলছে কড়া তল্লাশি ও টহল। এই পরিস্থিতিতে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে গোটা উপত্যকায়। সংবিধানের ৩৫এ বা ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে জম্মু এবং কাশ্মীরকে আলাদা রাজ্য ঘোষণা, ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পতাকা উত্তোলনের মতো জল্পনা ঘিরে চাপা উত্তেজনা। কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৩৫এ ধারা তুলে নেওয়া হচ্ছে না বলে গভর্নরের বিবৃতির পরও সেই উৎকণ্ঠা কমেনি। এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি কাশ্মীরের অধিকাংশ স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ। তবে শ্রীনগর ও জম্মুতে এখনও রয়েছে নেটওয়ার্ক। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব