মশা আওয়ামী লীগ-বিএনপি চিনে না: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ডেঙ্গু জাতীয় সমস্যা। প্রতিটি মানুষের সমস্যা। এডিস মশা আওয়ামী লীগকেও চিনে না, বিএনপিও চিনে না, সরকারি দল চিনে না, ডাক্তারও চিনে না, ইঞ্জিনিয়ারও চিনে না, ধনীও চিনে না, গরিবও চিনে না।

‘এদের সুযোগ দিলে সুযোগটা পায়। এই ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান মিলেমিশে করতে হবে, সম্মিলিতভাবে করতে হবে। ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম অবনতি: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন।

গয়েশ্বর বলেন, ঢাকার দুইটি সিটি কর্পোরেশন আছে। মানুষ রসিকতা করে বলে সিটি করাপশন। অর্থাৎ এই সিটি ভবন মানে এখানে করাপশনের আড্ডাখানার আওতায়। প্রতি বছর মশা মারার নির্ধারিত বাজেট আছে। ডেঙ্গুর বাইরে কিন্তু সাধারণ মশা আছে। এই সাধারণ মশা মারার একটা প্রকল্প আছে।

‘তাদের সুনির্দিষ্ট বিভাগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। প্রতি বছর ওষুধ বা ভেজাল যেটাই বলুন কেনা হয়। এগুলো মোটা অংকের টাকা সাশ্রয়ী করে তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। ফলে যতটুকু সামর্থ্য আছে তা সঠিকভাবে ব্যবহার হয় না। এ জন্য মশার প্রকট থেকে মানুষ রক্ষা পাচ্ছে না।’

বর্তমান সরকার ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়াবহ উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ডেঙ্গু বনাম খুন-গুম-নারী নির্যাতন। এই দুইটা যদি প্রতিযোগিতা হয় দেখা যাবে এখনও শিরোপা অর্জন করিনি।

‘অর্থাৎ গুম-খুন-নারী নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়াবহ। ডেঙ্গুতে এই পর্যন্ত যতজন মারা গেছে তার চেয়ে গুম-খুন-নারী নির্যাতনে লাশের মিছিল অনেক বড়। তাহলে ডেঙ্গুর চেয়ে ভয়াবহ কে? এই সরকার। তারা ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়ানক।’

তিনি বলেন, ডেঙ্গু যাবে। মাঝে মাঝে যে রোগ দেখা যায় সবার প্রচেষ্টায় সেটা যায়। কিন্তু খুন-গুমের সঙ্গে যারা জড়িত, নারী নির্যাতনে যারা জড়িত, শিশু অপহরণে যারা জড়িত তাদের তো ভয়াবহ ডেঙ্গু। এই ডেঙ্গুর হাত থেকে সাধারণ মানুষের মা-বোন-স্ত্রী-কন্যার সম্ভ্রম রক্ষা করতে আমাদের আরও বেশি কঠিন ও কঠোর অবস্থানে ঐক্যবদ্ধভাবে নামার অবস্থা আছে কিনা? থাকলে সেটা নিয়ে একটু ভাবেন।