ঢাকা ডেঙ্গু টাইম বোমার ওপর বসে আছে, প্রশ্ন বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছে কী হয়নি

বিজ্ঞানী ও গবেষক সাইদুর আর চৌধুরী ২০১১ সালে কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, জনস্বাস্থ্য বিভাগ এবং আইসিডিডিআরবি-র যৌথ উদ্যোগে ঢাকার ডেঙ্গু ঝুঁকি নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই গবেষণার কিছু উপসংহারের বলা হয়েছিলো ‘ঢাকা ইজ সিটিং অন এ ডেঙ্গু টাইম-বোম্ব। সেই টাইম-বোমা এবছরই বিস্ফোরিত হয়েছে। বা আদৌ এখনো পুরোপুরি বিস্ফোরিত হয় নি।

সাইদুর রহমান তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে আরো বলেন, একটি খালি হাউজিং প্লটে জন্মানো কচু গাছের ডগায় জমা পানি থেকে, আরেকটি নির্মাণাধীন বাড়ির নির্মাণ সামগ্রীতে জমা পানি থেকে, এরকম ১৪টি ওয়ার্ড থেকে আমরা মশার ডিম সংগ্রহের পর পরীক্ষাগারে ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে নিশ্চিত হয়েছিলাম এরা এডিস মশাই। সবার মনে রাখতে হবে সিটি কর্পোরেশন একা কোনদিন ডেঙ্গু নির্মূল করতে পারবে না, যদি সবাই যার যার বাসা-বাড়ির এডিস নির্মূল না করেন। আপনি হাজার তেলাপোকা মারলেও আপনার প্রতিবেশি মারে না, তাই আপনার বাসায় তেলাপোকা নির্মূল হয় না। এডিসও তাই, আপনি মারবেন, কেউ না কেউ মারবে না। তাই দিনের বেলায়ও বিশ্রাম নিতে মশারির নিচে বিশ্রাম নিন। এডিস মশা প্রধানত দিনে কামড়ায়, রাতে আলোকিত কক্ষে কামড়াতে পারে।

এডিস মশা নগরের আবর্জনা ও ড্রেনে হয় না। প্রকৃতপক্ষে কোন নোংরা পানিতেই এরা বাঁচেনা, এদের প্রজননস্থল আপনারই বাসার ফ্রিজের পানি, গাছের টবে বা বাথরুমে জমা পানি, রাস্তায় ডাবের খোসা বা পরিত্যক্ত টায়ারে থাকা পরিস্কার পানি।

গবেষক সাইদুর আর চৌধুরীর আরেকটি স্ট্যাটাসে বলেন, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা হাঁটুর উপর আর উঠতে/উড়তে পারেনা, তাই হাটু পর্যন্ত নারিকেল তেল মেখে রাখলে আপনি নিরাপদ- এই রকম ভয়ঙ্কর একটি গুজব ফেসবুকে প্রচারিত হচ্ছে। প্রকৃত তথ্য হলো একটি সুস্থ এডিস মশা ৫০ ফুট বা প্রায় ৫তলা সমান উঁচুতে উঠার বৈজ্ঞানিক প্রমানাদি আছে। তাছাড়া আপনি হাটু পর্যন্ত তেল মেখে শুয়ে থাকলে নিরাপদ হলেন কিভাবে?

এই গুজবের দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো নারিকেল তেল আদৌ ইনসেক্ট রিপেলেন্ট নয়। যদিও ইউএসডিএ-র বরাতে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে নারিকেল তিল ভিত্তিক রিপেলেন্ট কার্যকর হতে পারে, কিন্তু একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শুধু নারিকেল তেলের মশারোধী কোনই কার্যকারিতা নেই – নারিকেল তেলে অন্য এসেনশিয়াল অয়েল যেমন সিট্রানেলা, নীম অয়েল মেশালে কাজ হতে পারে। প্রফেশানাল অ্যাডভাইজ হচ্ছে, পরীক্ষিত ইনসেক্ট/মসকুইটো রিপেলেন্ট ছাড়া অন্য কিছুর উপর নির্ভর করা আর ডেঙ্গুর হাতে জীবন সঁপে দেয়া সমান কথা