উৎকণ্ঠা সিলেটেও, ২৪ ঘণ্টায় ২৫ রোগী ভর্তি

ডেঙ্গু রোগী বাড়ায় সিলেটে উৎকণ্ঠার অন্ত নেই। প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় চাপ বাড়ছে। ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রগুলোতেও ভিড়। রোগী বাড়ার কারণে সিলেটেও এটি মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুরুষ রোগীর সংখ্যা আগেই বাড়তি ছিল। এখন নতুন করে মহিলা ও শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত ১০ জন শিশু ও মহিলা রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৮ জন শিশু ও মহিলা রোগী। এর বাইরেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও আরো ১০-১২ জন শিশু ও মহিলা রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ঈদের ছুটিতে আরো রোগী বাড়লে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দেয়া কষ্টকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে- গতকাল বিকাল পর্যন্ত সিলেটের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিলো ৮৭ জন। এর মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৭ জন। নতুন রোগী ভর্তির তথ্যও মিলছে। সন্ধ্যায় আরো কয়েকজন রোগী ওসমানী হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই রোগীদের মধ্যে ১০ জন হচ্ছে নারী ও শিশু। এছাড়া সিলেটের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪০ জন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ২৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ওসমানী মেডিকেলের এসডিইউ বিভাগে ১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ঈদে ছুটি কাটাতে প্রচুর মানুষ নিজ বাড়ি সিলেটে আসবেন। ইতিমধ্যে আসাও শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আক্রান্ত হয়ে সিলেটে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে বেশি পরিমাণ রোগী ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে- গত ৭ জুলাই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ওসমানী হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ জন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় গতকালও জানিয়েছেন- সিলেট জেলায় এখনো ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েনি। যা আছে সব সিলেট নগরকেন্দ্রিক। সিলেট নগরেও নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে এডিস মশার অস্তিত্ব রয়েছে। এ নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এখন সমন্বিতভাবে সরকারি- বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সিলেটে কিট সহ অন্যান্য উপকরণের কোনো সংকট নেই বলে তিনি জানান। সিলেটে এ পর্যন্ত ১৮০ জনের মতো ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি মিলেছে বলে জানান তিনি। এবং রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এদিকে- সিলেটের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- তারা ইতিমধ্যে ৮০ জনের উপর ডেঙ্গু রোগী পেয়েছেন। এসব রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর চেয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বেশিসংখ্যক মানুষ ভিড় করছেন। সিলেটে যারাই সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা ছুটে যাচ্ছেন ডাক্তারের কাছে। এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হুমড়ি খাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সিলেটের মেডিকেল রোড, চৌহাট্টা, স্টেডিয়াম, মীরবক্সটুলা ও সুবহানীঘাট এলাকার কয়েকটি প্যাথলজিক্যাল সেন্টারে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২ হাজার রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন। এদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েক জন রোগীর ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। বেশির ভাগ রোগীই প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ বেড়েছে। ওসমানীতেও যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়। অন্য যেসব রোগী বহির্বিভাগের আসেন তারা বাইরে থেকেও ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক পরামর্শ তাদের বহির্বিভাগে দেয়া হচ্ছে। ওসমানী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক আবু কামরান রাহুল জানিয়েছেন- ওসমানী হাসপাতালে মশারির ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসাকালীন সময়ে যাতে ডেঙ্গু না ছড়ায় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ওয়ার্ডকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখা হচ্ছে।