‘আইনমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আইনজীবী হিসেবে লজ্জা পেয়েছি’:ড. শাহদীন মালিক

জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটিতে বাংলাদেশ যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেছেন, জেনেভায় দেয়া আইনমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আইনজীবী হিসেবে আমি লজ্জা পেয়েছি।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করে বলেন, ‘দেশে ন্যূনতম সুরক্ষা নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও তার জন্য জবাবদিহি না থাকা হলো একটি রাষ্ট্র অকার্যকর হওয়ার বড় লক্ষণ।

সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আমাদের সবাই সোচ্চার না হলে, এটা একটা অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা আমরা রোধ করতে পারবো না। আন্তর্জাতিক মহলে গিয়ে কিছু চেষ্টা, কিন্তু নিজেদের মধ্যেও তো কিছু চেষ্টা করতে হবে। যারা চেষ্টা করছি তাদের চেষ্টাগুলো আরও জোরদার করতে হবে। অধিকার নিশ্চিত না হলে গত ১০০ বছরে কোনো রাষ্ট্রের উন্নতি হয়েছে আমাদের কাছে এ ধরনের উদাহরণ নেই।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের বাস্তবায়নের বিষয়ে ‘বাংলাদেশের সরকারের প্রাথমিক প্রতিবেদন: নির্যাতনবিরোধী কমিটির বক্তব্য ও আমাদের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারা হোসেন।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিবেদনে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রতিনিধিদল কমিটির বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আলোকে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অমর্যাদাকর আচরণ প্রতিরোধে বিষয়ে উল্লেখ করলেও নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের ব্যাপারে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়ার এবং কতিপয় ঘটনা ছাড়া অপরাধীদের বিচারে সোপর্দ না করার বাস্তবতাকে আড়াল করতে সচেষ্ট ছিল। এতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরাট অংশ, ক্ষমতাসীনদের বহুলাংশ এবং স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, নির্যাতন বন্ধের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। তাই পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মানবাধিকার কর্মী শিরীন হক।