‘কূটনৈতিক ক্যারিশমার কারণে জারিফের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা’

আমেরিকার ভেতর-বাহির সবই জানা আছে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের। তিনি বহু বছর দেশটিতে অবস্থান করেছিলেন। আর তার এই অতিরিক্ত দক্ষতার দরুন চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ভয়েস ফর ক্রিয়েটিভ নন-ভায়োলেন্সের সমন্বয়ক সিয়ান রেইনল্ড এমন কথাই বলেছেন রুশ গণমাধ্যম স্পুটনিককে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক বৈরী হিসেবে বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিয়ান রেইনল্ড বলেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সংশ্লিষ্ট ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লাগার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মতো গণতন্ত্র চায় না। দেশটির সরকারে জোরালো গণতান্ত্রিক উপাদানসহ ধর্মীয় শাসন চলছে। আবার আঞ্চলিক তেল পরিবহনে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এই তেল শোষণ করতে একনায়করা খুব ভালো কাজ দেন। যে কারণে আমেরিকানরা নৃশংস সৌদি সরকারের মিত্র। তারা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্পদ নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

নিষেধাজ্ঞার পর মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, নিজেদের অ্যাজেন্ডার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাকে বড় হুমকি হিসেবে মনে করে।

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে ক্যারিশম্যাটিক আখ্যায়িত করে রেইনল্ড বলেন, তিনি মার্কিন স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ফ্যান্সিসকোর প্রাইভেট স্কুলে পড়েছেন। পরবর্তী সময়ে স্যান ফ্যান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ডেনভার ইউনিভার্সিটিতে পড়েছেন।

‌‘আমি মনে করি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ব্যক্তিকে দেখতে চান না, যিনি যৌক্তিকভাবে কথা বলেন। আমাকে আশা করতে হচ্ছে, এটা ট্রাম্পের দেমাগ কিন্তু বোল্টনের কৌশলগত কোনো বিষয় না। কারণ বোল্টন চাচ্ছেন যুদ্ধ, আর ট্রাম্প চাচ্ছেন ট্রাম্পকে।’