শোক দিবসের প্রথমদিন আওয়ামী আইনজীবীদের হাতাহাতি, ভাঙচুর

বগুড়ায় জাতীয় শোক দিবসের প্রথমদিন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চেয়ার ও দরজা ভাঙচুরও করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেটস্ বার সমিতির গওহর আলী ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরের এ ঘটনায় উভয়পক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু এবং প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্র্জি পরস্পরকে দায়ী করেছেন। এ ঘটনা কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের অবহিত করে বিচার দাবি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- নরেশ মুখার্জি গ্রুপের বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জি, যুগ্ম-সম্পাদক ও দ্বিতীয় নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ার হোসেন পায়েল, দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি কাজী রবিউল আলম মিঠু এবং ভারপ্রাপ্ত পিপি নুরুস সালাম সাগর, রেজাউল করিম মন্টু গ্রুপের দলীয় নেতাকর্মী বেনজীর ও রুমু।

নরেশ মুখার্জি জানান, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রথমদিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ব্যাজ লাগানোর সময় ধার্য ছিল। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম মন্টুর উদ্বোধনের কথা থাকলেও তিনি আসেননি। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা ব্যাজ ধারণ করেন।

তিনি জানান, ব্যাজ পরার অপরাধে রেজাউল করিম মন্টু কিছু জুনিয়র আইনজীবী ও বহিরাগতদের নিয়ে গওহর আলী ভবনের সামনে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। লাঠিসোটার আঘাতে তিনি (নরেশ) ছাড়াও আশেকুর রহমান সুজন, নুরুস সালাম সাগর, আনোয়ার হোসেন পায়েল ও কাজী রবিউল আলম মিঠু আহত হন। এদের মধ্যে সুজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

নরেশ আরও জানান, এ হামলা ঘটনা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের অবহিত করে বিচার চাওয়া হয়েছে।

অপরদিকে রেজাউল করিম মন্টু জানান, তার উপস্থিতিতে ব্যাজ ধারণের কথা থাকলেও নরেশ মুখার্জি ও তার লোকজন আগেই ব্যাজ ধারণ করেন। অ্যাডভোকেট প্রিন্স ও শাহরিয়ার ফাহিম এ ব্যাপারে নরেশ মুখার্জিকে বলেন- মন্টু ভাইকে ছাড়া আপনারা ব্যাজ ধারণ করলেন কেন? তখন নরেশ জানান- অ্যাডভোকেট লুৎফে আল গালিব জাহিদ তাদের ব্যাজ লাগিয়ে দিয়েছেন। পরে জাহিদ জানান- তিনি কাউকে ব্যাজ পরে দেননি। এ সময় গালিব ফোনে নরেশের কাছে এ কৈফিয়ত চাইলে তিনি (নরেশ) ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে (মন্টু) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তখন তিনিও (মন্টু) নরেশকে গালিগালাজ করেছেন।

মন্টু অভিযোগ করেন-এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নরেশ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তার চেম্বারে এসে লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন। এরপর চেয়ার তুলে তার মাথায় হামলা করার চেষ্টা করলে সেখানে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বেনজীর আহমেদ চেয়ার ধরে তাকে রক্ষা করেন। এতে বেনজীর আহত হন। এরপর তারা চেম্বারের বাইরে এক মহুরির চেয়ার ভেঙে সেটা দিয়ে তাকে মারতে যান। তখন রুমু নামে এক দলীয় কর্মী থামাতে গিয়ে আহত হন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে।

রেজাউল করিম মন্টু আরও জানান, নরেশ ও তার লোকজনের এহেন ঘটনায় তিনি খুবই মর্মাহত। তিনি এ ব্যাপারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের সময় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।