বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষা ফি নির্ধারণ, সরকারিতে ফ্রি

দেশের সকল বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিককে ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষা খরচ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। নতুন এই নির্ধারিত ফি গতকাল থেকেই কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কোনো প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্ত না মানলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ একথা বলেন।

মহাপরিচালক জানান, পুরো ঢাকাই এখন ডেঙ্গু ঝুঁকিতে। ঢাকার ১০০টি এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনে শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষেশায়িত হাসপাতালগুলোতেও এ রোগের চিকিৎসা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।
তিনি জানান, বৈঠক করে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষার ফি এনএস-১ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, আইজএম+আইজিজি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, সিবিসি সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। কোন হাসপাতালে এর বেশি ফি নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ফি কম নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে। পুরো বিষয় অধিদপ্তরের ১০টি টিম মনিটরিং করবে। তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিক সমিতিরি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা ডেঙ্গু রোগীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ফি কম নেয়া এবং প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সহযোগিতার জন্য ডেঙ্গু ডেস্ক খুলতে রাজি হয়েছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানান মহাপরিচালক। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ সংশ্লিষ্ট সব টেস্ট ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় ডেঙ্গু জ্বরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে মহাপরিচালক বলেন, ডেঙ্গু রোগীকে গুনে গুনে দেখা যায় না। এটা নিয়ে বিতর্ক করতে চাই না। মৃত্যুর সংখ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে এনএস-১ মিথ্যা পজেটিভ হতে পারে। বাজারে প্যারাসিটামল এবং স্যালাইন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে জানান তিনি। ডিজি জানান, গতকাল পর্যন্ত ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউতে আছে। এর মধ্যে ১২জনই শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে। ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন (উবহমাধীরধ) দেয়া যায় কিনা তার সম্ভাবতা যাচাই-এর জন্য সানোফি এভেনটিস কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করা হয়। এতে তারা জানিয়েছেন এর মূল্য পড়বে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এটা আনতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে। এটি ফিলিপাইনে ব্যবহার করে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মহাপরিচালক আরও জানান, আগামী ১লা আগস্ট সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে গিয়ে ডেঙ্গু নিয়ে সতেনতা মূলক বক্তব্য দেবেন। বেসরকারি হাসপাতালে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসকরা যাবেন।

ডেঙ্গু রোগীর ঘঝ১ ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যা পূর্বে মূল্য ছিল ১০০০ টাকা। ওমএ ্‌ ওমগ (ঃড়মবঃযবৎ) ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যা পূর্বে মূল্য ছিল ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা। ঈইঈ(জইঈ+ডইঈ+চষধঃবষবঃ+ঐবসধঃড়পৎরঃ) ৪০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যা পূর্বে মূল্য ছিল ১০০০ টাকা। এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী সব বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য একটি ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ চালু করতে হবে। এর পাশাপাশি সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করার জন্যও আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীদের দিতে একজন নির্ধারিত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। যার ফোন নম্বর দিতে হবে।