প্রেমিকাকে কি ডাউনিং স্ট্রিটে নিতে পারবেন বরিস জনসন!

লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়ির বিখ্যাত কালো দরজা দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভিতরে প্রবেশ করলেন বরিস জনসন। কিন্তু এ সময় তিনি ছিলেন সিঙ্গেল। অর্থাৎ তার সঙ্গে তার স্ত্রী ছিলেন না। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। স্ত্রী মেরিনা হুইলারের সঙ্গে ২৫ বছর সংসার করার পর আলাদা বসবাস করছেন বরিস জনসন। তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তিনি প্রেমে পড়েছেন গার্লফ্রেন্ড ক্যারি সায়মন্ডসের। বরিস জনসন যখন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়িতে প্রবেশ করেন তখন তার সঙ্গে ছিলেন না মেরিনা হুইলার, বা তার গার্লফ্রেন্স ক্যারি সায়মন্ডস।
বরং ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের স্টাফদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সব অবলোকন করছিলেন ক্যারি সায়মন্ডস। তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসভবনে গেলেন না বরিস। এখন প্রশ্ন হলো, তাকে কি বরিস জনসন তার সরকারি বাসভবনে নিতে পারবেন?

কয়েক দশক ধরে সেখানে এমন রীতি প্রচলিত যে, নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দরজা পাড় হয়ে ভিতরে প্রবেশের আগে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে মিডিয়ার উদ্দেশে হাত নাড়বেন। কিন্তু সেই দৃশ্য এবার মিস করলেন বৃটেনবাসী। মেরিনা হুইলার ও বরিস দম্পতির রয়েছে চারটি সন্তান। তারা এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে তারা বিচ্ছেদে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তার ফয়সালা এখনও হয় নি। ফলে বরিস জনসন তার প্রেমিকা ক্যারি সায়মন্ডসকে বিয়েও করতে পারছেন না। এ বিষয়ে লন্ডনের রয়েল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের লেকচারার নিকোলাস অ্যালেন বলেন, যখন কেউ অন্য একজন নারীর সঙ্গে টেকনিক্যালি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ আছেন, তখন তার পক্ষে অন্য একজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়িতে প্রবেশ করা কঠিন। এটাকে খারাপ চোখে দেখা হতে পারে।

বরিস জনসন যখন ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের আগে বক্তব্য রাখেন তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্যারি সায়মন্ডস। কিন্তু তিনি জনসনের একেবারে পাশে ছিলেন না। এ সময় ক্যামেরা বার বার তার দিকে স্থির হয়েছে। এতে ইঙ্গিত মেলে যে, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে বদলে যাবে। যদি ৩১ বছর বয়সী ক্যারি সায়মন্ডস তার প্রেমিক বরিস জনসনের সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে যোগ দেন তাহলে ১৭৩ বছর বয়সের মধ্যে তিনিই হবেন একজন প্রধানমন্ত্রীর সবেচেয়ে কম বয়সী পার্টনার।

১৭২১ সালের পর বৃটেনে ক্ষমতায় এসেছেন ৫৪ জন প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যে মাত্র দু’জনের বিচ্ছেদ হয়েছে। ১৭৬৮ থেকে ১৭৭০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগাস্টাস হেনরি ফিটজরয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুনর্বার বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বৃটেনে একজন মাত্র সিঙ্গেল প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি হলেন এডওয়ার্ড হিথ। তিনি ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি কখনো বিয়েই করেন নি।