ডেঙ্গুর বিস্তার ও মৃত্যু, গুজব ও গণপিটুনী,বন‍্যা,নারী-শিশু ধর্ষন,বন্ধুকযুদ্ধ,ঋণখেলাপি, শেয়ারবাজারে পতন,ইত্যাদি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সরকার

সারাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ও মৃত্যু, গুজব ও গণপটিুনি, দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় আক্রান্ত হওয়া, নারী-শিশু ধর্ষণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়া, বন্দুবযুদ্ধের ঘটনা ও ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্যে কাবু ব্যাংক খাত, শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতন ইত্যাদি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সরকার ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাসখানেক ধরে একের পর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে। ‘ছেলেধরা’ গুজব থেকে গণপিটুনিতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৫ জন। এ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অতীতের যে কোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একে ‘মহামারী’ বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থাও।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দেশের ২৭টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে আটটি জেলার পানি নেমে গেলেও বাকি জেলাগুলোর বাসিন্দারা রয়েছেন এক ধরনের পানিবন্দি অবস্থায়। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির। এরই মধ্যে উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও ত্রিপুরায় ফের প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য, গত ১২ দিনে বন্যায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্যে কাবু হয়ে পড়েছে দেশের ব্যাংক খাত। শেয়ারবাজার টানা কয়েকদিনের দরপতন হয়েছ্।ে দরপতনের কারণে বিক্ষোভ করছে সাধারণ বিনিয়োগকারিরা। বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মূলধন কমে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৭ জুন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ কোটি টাকা। গত ১৭ দিনে শেয়ারবাজারের মূলধন ২১ হাজার কোটি টাকা কমে ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। আর মূল সূচক কমেছে সাড়ে ৩০০ পয়েন্ট।

দেশে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। গত তিন মাসে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ/আটক ও রহস্যজনক নিখোঁজ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, হত্যার মতো অনেক নৃশংস ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৬ মাসে সারা দেশে ৮২৬ শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে ধর্ষণের পর ২২৪ জনকে হত্যা আর ৭৬ শিশু নির্যাতন ও ২৭ শিশু তাদের শিক্ষকের দ্বারা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছে। একদিন আগেই চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

নারী ও শিশুনির্যাতন, ধর্ষণ ও গুজব বন্ধের প্রতিবাদের গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাজধানীর পান্থপথ সিগনালের সামনে মানববন্ধর করেছে কলাবাগান থানা ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা।

কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আব্দুর রহমান শিমুল বলেন, “সারাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি পৈশাচিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও গুজবের মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে সমাজের নারী ও শিশু সহ সর্বস্তরের জনগণ আতঙ্কিত। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন প্রণয়ন, আইনের সঠিক প্রয়োগ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সমাধানের দিকে না গিয়ে বরং সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। গণপিটুনিতে এক নারী নিহত হওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। জনগণ কেন এভাবে অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে তাও পর্যালোচনা করা দরকার বলে মনে করেন তারা।

বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ক্ষেত্রবিশেষ বিচারহীনতাও এ ক্ষেত্রেও বড় কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর ধর্ষকের মানসিক সমস্যার কথা সব বিশ্লেষক ও মনোবিদেরা এক কথায় স্বীকার করে নেন।
সম্পাদনা : ইকবাল খান ও সালেহ বিপ্লব