তিন তালাক নিষিদ্ধ করার বিল পাস ভারতের লোকসভায়

বহুদিন ধরে হুজ্জোত চলছে ভারতে, এই বিলের বিপক্ষে আন্দোলনও হয়েছে। তাৎক্ষণিক তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে আনা কেন্দ্রীয় সরকারের বিলটি বৃহস্পতিবার পাসের সময় ওয়াকআউট করে এডিএ’র জোট শরিক জনতা দল ইউনাইটেড। তাদের যুক্তি, এই ধরণের একটি আইন “সমাজে বিশ্বাসের ঘাটতি” তৈরি করবে। ভোটের পরে ওয়াকআউট করে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বিলটি যাবে রাজ্যসভায়। একই দিনে গুরুত্বপূর্ণ আরটিআই বিল পাস হয়েছে লোকসভায়, এটিও মোদী সরকারের বড়ো অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন যা হবার রাজ্যসভায় হবে, তবে বিলটি পাসের প্রতিবাদে আন্দোলন জোরদার হলে রাজ্যসভা একটু বিব্রত হতেই পারে। এনডিটিভি। হিন্দুস্তান টাইমস

দীর্ঘদিন এই বিলটি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী লড়াই চলছিলো। বিল পাসের সময়ও হাঙ্গামা কম হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনায় এনডিএ সরকারের শরীকরাও বিলটির ব্যাপারে আপত্তি জানায়। তথ্য জানার অধিকার আইন, সংশোধন বিলের ক্ষেত্রে সরকারের পাশে থাকা বেশীরভাগ দলই জানিয়ে দিল, এই বিলের বিরুদ্ধে তারা। নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের শাসকদল ওয়াইএসআর কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যসভায় তারা এই বিলের বিরোধিতা করবে।

নতুন আইনি বলা হয়েছে, কোনও মুসলিম ব্যক্তি স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক তিন তালাক দিলে, অর্থাৎ তিনবা তালাক শব্দটি উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইলে, তাকে কারাদণ্ড দেয়া হবে। এই আইনের বিরোধিতা করে বিরোধীরা বিলটি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানায়। তবে সরকার বলেছে, লিঙ্গ সমতার জন্য আইনটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বিলটি পেশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন আদর্শ, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস”-এর সঙ্গে যুক্ত। এটি লিঙ্গ সামত্য বিষয়ক। বিশ্বের ২০টি মুসলিম দেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াও তিন তালাক নিষিদ্ধ করেছে। ধর্মনিরপেক্ষ ভারত কেন পারবে না ? যখন হিন্দু বা মুসলিম, কেউই গার্হস্থ্য হিংসা এবং পণপ্রথার জন্য কারও কারাবাস হলে, কেউই তার বিরোধিতা করবে না”।

বিলটিকে দ্রুত পাশ করানো সরকারের চেষ্টার বিরোধিতা করে বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের মুখ্যসচেতক কে সুরেশ লোকসভায় অভিযোগ করেন, বিলটির পটভূমিকা “গোপন” রেখেছে সরকার। সংবাদসংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, “গতকাল রাতে, আজকের তালিকায় তারা তিন তালাক বিলটিকে রাখে এবং বিরোধীদের না জানিয়েই, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিল বিল এবং ডিএনএ প্রযুক্তি রেগুলেশন বিল স্থগিত রাখে।কেন তারা এটা গোপন রাখছে, এবং রাতে কর্মসূচী ঠিক করছে?’’