রেনু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও দুই জন

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গণপিটুনির ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে বাড্ডার হোসেন মার্কেট ও তেঁতুলতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, মো. কামাল ও আবুল কালাম আজাদ। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এদের মধ্যে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিন জনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে রোববার রাতে মো. শাহীন, জাফর হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও বাচ্চু মিয়া নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তিন জনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এরমধ্যে জাফর হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, রেনুকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় রোববার মধ্যরাতে গ্রেপ্তার জাফর বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মন্ডল চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে তাসলিমাকে হত্যা করে স্থানীয়রা। স্কুলটিতে চার বছরের মেয়েকে ভর্তি করানোর জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তিনি। নিহত তাসলিমার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে।

মহাখালীতে চার বছরের মেয়ে, ১১ বছর বয়সী ছেলে ও মাকে নিয়ে থাকতেন তাসলিমা। দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
সন্তানকে স্কুলে ভর্তির খোঁজ নিতে শনিবার সকালে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান তাসলিমা বেগম রেনু। ওই সময়ে স্কুলের গেটে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েকশ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে তাকে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চারশ থেকে পাঁচশ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন।