২১ শে জুলাই বিরোত্তম শহীদ কর্ণেল আবু তাহের হত‍্যা দিবস

১৯৭৬ সালের ২১ শে জুলাই বীরোত্তম শহীদ কর্নেল তাহেরকে সাম্রাজ‍্যবাদের পা চাটা কুত্তারা ফাসীর কাষ্টে ঝুলিয়ে হত‍্যা করে ইতিহাসের এক জগণ‍্যতম কাজ করে ।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কর্ণেল তাহের ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার এবং তিনি সেই সময় শুধুর পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধে শত্রুদের মর্টারের আঘাতে একটি পা হারিয়ে ফেলেন,কিন্তু তিনি ক্ষান্ত হয়ে যাননি।শহীদ কর্নেল তাহেরের এ আত্মদান বৃথা যাবে না।
বীর বিপ্লবী কর্নেল আবু তাহের সামরিক জান্তার সাথে কোন আপোষ নাকরে নিঃশঙ্কচিত্তের থেকে জীবনে আর কোন বড় সম্পদ নেই এই মন্ত্র শিখিয়ে ফাসির মঞ্চে জীবন দিয়ে আমাদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। বরাবরের মত এই বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারই প্রিয় রাজনৈতিক দল “জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জেএসডি” ,এই দিনটি পালন করে শ্রাদ্ধা ও ভালভাষার সাথে এই বীরকে স্বরন করছে।
কর্ণেল তাহের যদি চাইতেন সামরিক শাসকের কাছে প্রানভিক্ষা চাইতে পারতেন,আর হয়ত তার বিনিময়ে তিনি মুক্তি পেতে পারতেন। কিন্তু যে তাহের কৃষকের ,যে তাহের শ্রমিকের ,যে তাহের ছাত্রের ,যে তাহের তার সহযোদ্ধা জাসদের ,যে তাহের শ্রমজীবী,কর্মজীবী , পেশাজীবী জনগণের ,সে তাহের কারো কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেনা। শহীদ কর্ণেল তাহের অনেক ভেবে চিন্তে তার প্রানপ্রিয় সংগঠন জাসদে যোগ দিয়েছিলেন। সকলের মুক্তি নিয়ে আসতে পারে যে দল ,সেই দলই হবে জাসদ।
ইতিহাস তার গতিপতে আপনিই চলে ,যারা কর্ণেল তাহেরকে হত‍্যা করল,তাদের পরিণতি কি হয়েছিল ইতিহাসের পাঠক তা দেখেছে। বাংলাদেশের শাসকগোষ্টির কার কি পরিণতি হয়েছে,কমবেশী আমরা সবাই তা জানি। আর বাকী ইতিহাসের জন‍্য অপেক্ষা করতে হবে।
জাসদ কোনদিন হত‍্যার রাজনীতি করেনি,জাসদের স্লোগান ছিল “সামাজিক বিপ্লবের মাধ‍্যমে শ্রেণী সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্টা”।জাসদেরঅন‍্য শ্লোগান ছিল,লড়াই লড়াই লড়াই চাই ,লড়াই করে বাচতে চাই,এ লড়াই বাচার লড়াই ,এ লড়াইয়ে জীততে হবে।
বিপ্লবের অর্থ পরিবর্তন,আর জাসদ চায় পরিবর্তন এবং এ পরিবর্তনের জন‍্য জাসদ কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম‍্যহীন সমাজব‍্যাবস্থা থাকবেনা।সকলের সমানাধিকার থাকবে।
কর্ণেল তাহেরের প্রানপ্রিয় সংগঠন কোনদিন হত‍্যার সাথে জড়িত ছিলনা ,১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ ইংরেজী বঙ্গবন্ধুকে হত‍্যা করেছিল আওয়ামীলীগ তথা বাকশালের লোকজন,খন্দকার মূশতাকের লোকজন ছিল আওয়ামীলীগেরই।বঙ্গবন্ধুকে হত‍্যার পর আওয়ামীলীগের লোকজনই মূশ্তাকের সরকারে যোগদান করেছিল।জাসদ মূশতাকের বিরোধিতা করেছে।১৫ই আগষ্ট এর অভ‍্যুত্থানের ফলে মুলত সেনাবাহিনী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়।এক অংশ মেজর ফারুক-রশীদ এর নেতৃত্বে খন্দকার মোশতাকের ছত্রছায়ায় বঙ্গভবনে অবস্থান নেয়।অপর অংশ জিয়া, খালেদ, মীর শওকত এর নেতৃত্বে সেনাছাউনীতে অবস্থান করে।খালেদের এ অভ‍্যুত্থানের মুল কারন ছিল সেনাবাহিনীর তথাকথিত শৃঙ্খলা এবং কমান্ড রক্ষা করা।জিয়া সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়া সত্বেও এই দুই অংশকে এক করার বা অপর অংশকে বিদ্রোহী হিসেবে ঘোষনা করে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা না করায় খালেদ বিদ্রোহ করেন।জিয়াকে গ্রেফতার করে নিজে সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।সামরিক বাহিনীর একে অনে‍্যর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারনে কর্ণেল তাহের শৃংখলা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন।তারপর কর্ণের তাহেরের নেতৃত্বেই বিপ্লবী সেনাবাহানী সংস্থা গড়ে উঠে।এই সংস্থার মাধ‍্যমেই তিনি সেনাবাহিনীর জন‍্য ১২ দফা দাবী প্রনয়ন করেন।
৭ই নবেম্ভর ১৯৭৫ ইংরেজী কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বে যে অভূত্থান হয়,তার লক্ষ‍্য ছিল ঘুনে ধরা সমাজব‍্যাবস্থার পরিবর্তন করে নতুন সমাজ গড়ে তোলা।প্রতিক্রিয়াশীলরা তা বুঝতে পেরে ঐক‍্যবদ্ধ হয়ে যায় এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পাল্ঠা অভূত্থান করে। উল্লেখ‍্য যে কর্ণেল তাহেরই জিয়াউর রহমানকে বন্ধিদশা থেকে মূক্ত করে নিয়ে আসেন।সামান‍্য সময়ের জন‍্য তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছিল,যেমনটি হয়েছিল প‍্যারী কমিউনে,ফ্রান্সে।
তারপরে জেলের মধে‍্য প্রহসনের মিথ‍্যা বিচারের নামে কর্ণেল তাহেরকে ফাসীর আদেশ দেয়.তাহেরকে আত্মপক্ষ সমর্তনের সুযোগ দেয়নি। তাহের ছিলেন আজন্ম বিপ্লবী, কারো কাছে জীবন ভিক্ষা চান নি,খুনী জিয়াউর রহমান ২১ শে জুলাই ১৯৭৬ ইংরেজী তাহেরকে ফাসীকাষ্টে ঝুলিয়ে দেয়। জিয়াউর রহমান আবারও প্রমান করল বাংলায় এখন ও বিশ্বাষ ঘাতকের স্থান আছে।
কর্ণেল তাহেরতো চলে গেলেন ,কিন্তু জাসদের নেতাকর্মীদের হাতে যে গুরু দায়িত্ব ছেড়ে গেলেন,ওরা কি তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করেছে।
সর্বশেষ জানামতে বিভিন্ন নামে জাসদের নামে কয়েকটি দোকান আছে,আর এই সমস্ত দোকানের যা অবস্থা বাংলাদেশের মোদির দোকানের মত।চাউল থাকলে ডাল নেই ,মরিছ থাকলে লবন নাই,পেয়াজ থাকলে রসূন নাই। আবার দোকানদারের নাম হল বড় বড়,করতেছেন তারা ক্ষমতার মসনদে যারা আছেন তাদের দালালী,চাটুকারীতা ।চাটুকারী করে নিজেরই পেট পালতে পারবেন না। দেশের জন‍্য কি করবেন।
তাই আমি জাসদের নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনীর প্রতি আকূল আহ্বান জানাই,আসুন সব দ্বিধাদন্দ ভুলে গিয়ে কর্নেল তাহের ও ৬৭ হাজার নেতাকর্মীর দিকে তাকিয়ে ,যাদের হত‍্যার জন‍্য জাসদ নেতৃত্ব কোন না কোন ভাবে দায়ী । ঐক‍্যবদ্ধ হয়ে জাসদের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাই ।

সকলের মনে কোন জটিল অংক থাকলে আস্তে আস্তে সবঠিক হয়ে যাবে,শুরুতে আমরা এক দল না হয়েও ঐক‍্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে পারি।
জয় আমাদের হবেই,জয় বৈঙ্গানিক সমাজতন্ত্র,মেহনতী মানুষের জয় হউক।
লেখক:কুনু মিয়া,লন্ডন থেকে