মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং বিচারহীনতায় বাড়াচ্ছে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ

মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং বিচারহীনতায় বাড়াচ্ছে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ । এমনটিই বলছেন শিশু এবং নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা।

শিশু সংগঠন খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. লেলিন আহমেদ বলেন, আমরা মনে করছি যখন সমাজ মানসিকভাবে দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার আইনগতভাবে এবং সামাজিকভাবে প্রতিহত করার প্রবণতা কমে যায়। না তখনই সমাজে শিশু ধর্ষণ, শিশু প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ বেড়ে যায়। আমাদের দেশে রাজনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য এখন বিঘ্নিত হয়েছে। সামাজিকভাবে যেকোন প্রকারে টাকা অর্জন করে ধনী হয়ে গেলে আইনকে যে কেনা যায় এটি মানুষ বুঝে ফেলেছে। অন্য দিকে অর্থ,বিত্তের এবং ক্ষমতার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের আইন না মানলেও কোন অসুবিধা হয় না।
অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় সেটি কোন অপরাধ হয়না। এব্যাপারটি বোঝার পর থেকেই আমাদের সমাজের দূর্বলতম অংশটি হচ্ছে শিশু, যারা দূর্বল, তাদের প্রতিবাদের ভাষা কম সেই শিশু এবং নারীর উপরে এই নির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত আমরা জানি, র্ধষণ হচ্ছে এক ধরণের বিকৃত মানসিকতার দাম্ভিক বহিঃপ্রকাশ। এই দম্ভ তৈরি হয় শক্তিশালী ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে। যখন অপরাধির বেশিরভাগ আইনি প্রক্রিয়া থেমে যায় তখন এটি হয়। এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে শিশু এবং নারী, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণে ক্রমাবনতি ঘটছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, শিশু ধর্ষণ আমাদের সমাজে কেন বাড়ছে এটা এক কথায় বলা খুব মুস্কিল। এই বিষয়টি এখন গবেষণার দাবি রাখে। তবে এটুকু বলা যায়, শাস্তিটা যদি নিশ্চিত করা যেত তাহলে হয়ত কমত। একদিনে আসলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। যারা অপরাধী যারা এই অপরাধ করছে ,এর মূল কারণ হচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়। আমরা নানানভাবে অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে এসেছি। সেই জায়গায় আমরা যদি এখন একটা ওয়েকআপ কল দেই তাহলে হয়ত কাজ হবে। এখন প্রত্যেকের মধ্যে ধর্ষণ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সমাজে এটা যে এখন একটা বড় ধরণের দুর্যোগ বয়ে এনেছে এটা এখন মানুষের কথাবার্তায় শোনা যায়।

তিনি বলেন, এখন নানান দিক থেকে আমাদের চেষ্টা করা উচিত। একইসঙ্গে অপরাধীকে কোন ধরণের সহযোগিতা করা যাবেনা। যারা অপরাধী তাকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে চাইবে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক একটা সদিচ্ছা থাকতে হবে। এটা এখন এমন একটা পর্যায়ে চলে এসেছে সমাজে এটা ভয়ের কারণ হয়ে গেছে। প্রত্যেকে এখন চিন্তিত। দেখা যায় যে পরিবার চিন্তিত, সেই পরিবার থেকেই ধর্ষক বেরিয়ে আসছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা আশ্রয় প্রশ্রয়ে রেখে অপরাধীকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছি। সম্প্রতি আমরা দেখলাম সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও ধর্ষণ প্রতিরোধের কথা শোনা গেল। কিন্তু তার কথার পরও আমরা দেখছি অপরাধীদের কেউ আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে তাহলে কি অপরাধীরা এভাবেই পার পেয়ে যাবে। যারা এই শাস্তিটা নিশ্চিত করবে তাদেরও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা দরকার। যেমন – থানা প্রথম নিশ্চিত করবে ঘটনাটি কি! সেখানে দেখা যাচ্ছে তারা ধর্ষণের মামলা নিতে চায়না, নিলেও উল্টোদিকে ঘুরায়, নয়ত ভয় দেখায়। অথবা তারা নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করে। সুতরাং আইন শৃঙখলা রক্ষাকারি বাহিনীর কাছেও আমাদের এই বিষয়ে প্রত্যাশা অনেক। সম্পাদনা : মুসবা তিন্নি