সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ: আহমেদফজলুর রহমান মূরাদ

বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তাত্ত্বিকভিত্তি গড়ে ওঠার প্রায় সওর বছর পর রাশিয়াতে লেলিনের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়িক হয়েছিল। কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলস প্রমান করেছিলেন যে শ্রমিকের শ্রমশক্তি শোষণ করে মালিক পুঁজি বাড়ায়। শ্রমের সঙ্গে পুঁজির সম্পর্ক খাদ্য ও খাদকের। এরা পরস্পরের প্রতিদন্দী। সুতরাং পরস্পরের মধ্যে দন্দ ও নিরবিচ্ছিন্ন। এই দন্দ প্রতিফলিত হয় শ্রমিকের কাজের সময় কমানো এবং মজুরী বৃদ্ধির সংগ্রামে মধ্যে। উৎপাদন শক্তির বিকাশের একটা স্তরে দেখা যায় যে উৎপাদন শক্তির নতুন রুপের সঙ্গে উৎপাদনের সম্পর্কের আর সামঞ্জস্য থাকছেনা উৎপাদন শক্তি
আর উৎপাদন সম্পর্কের বিরোধ দেখা যায়। এই বিরোধের অবসান হয়, যখন উৎপাদন সম্পর্ক শৃঙ্খল ভেঙ্গে ভেলে অর্থাৎ বিপ্লব সংগঠিত হয়। পুঁজি ও শ্রমিকের মধ্য সংগ্রাম একটা অন্তিম পর্যায়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। ব্যক্তিমালিকানা সামাজিক মালিকানার রুপান্তরিত হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতা শ্রমিক শ্রেনি অধিকার করে। ক্রমে, রাষ্ট্র ও শোষণের অবলুপ্তি ঘটে এই ব্যবস্থাই হল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বা সমাজতন্ত্রের সমাজ। সমাজতন্ত্র হল ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশের পরিণতি। শ্রেনি হীন সমাজের চিরবাসনায় আমরা সমাজতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করি।

রাজনৈতিক দিক থেকে সমাজতান্ত্রিক চেহারার ক্ষেএে রাষ্ট্র চলে আসে শ্রমিক শ্রেণী ও তাদের সহযোগী শ্রেণিগুলির নিয়ন্ত্রণে। অর্থনৈতিক দিক থেকে পরিবর্তন চরিত্র হলো যে উৎপাদনের মূল উপকরনগুলিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ঘুচিয়ে রাষ্ট্রায়ও মালিকানা আনা। নতুন ও উন্নত তর মানব সমাজে সমাজতন্ত্রই হলো সৃজনশীল পথ। আমাদের সংগঠন কোন নিদিষ্ট শ্রেণীর সংগঠন না হলেও, দ্বান্দিক বস্তুবাদের চেতনায় আমাদের মতাদর্শ শনিত। গরীব মেহনতী মানুষের সঙ্গে কর্পোরেট পুজির লড়াইতেআমরা খেটে খাওয়া মানুষের সংগ্রামের শরিক। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের লংমারর্চে আমাদের সংগঠন অগ্রণী সৈনিক।

মার্কস – এঙ্গেলসেকে বিভিন্ন মতবাদের বিরুদ্ধে তান্ত্রিক সংগ্রাম পরিচালনা করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হয়েছে। টমাস মুরের ইউটোপিয়া থেকে ব্লাঙ্কিবাদ, বাফুনিনের নৈরাজ্যবাদ প্রভৃতি মতবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালিত করতে হয়েছে। বৈজ্ঞানিক সমাজ তন্ত্রের মতাদর্শ পেড়িয়ে এসেছে পেরেসতৈকা, গ্লাসনস্ত অধ্যায়, জবাব দিয়েছে লিউ বিনিয়ানদের বিশৃঙ্খলা। সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর ঘোষিত হয়েছিল – TIN ( There is no alternative)। ফ্রান্সিস ফুকুওয়ামারা ইতিহাসের মৃত সংবাদ ঘোষণা করেছিলেন। ব্রেজনেস্কি সমাজতন্ত্রেরকে বললেন Historical abor -tion, ই্যাটিংটনের Clash of civilization -এর তত্ত্ব গতি পেল post moderinism- এ। কিন্তু চলমান ইতিহাসকে সক্ষী রেখেই ফুকুওমাদের উপলদ্ধি ভুল বলেছিলাম। সংকটের আবর্তে বিশ্বের তাবৎ অর্থনীতিবিদরা ক্যাপিটাল ‘ এর পাতা উল্টেছেন। স্লোগান উঠেছে Back to Marx। আবার প্রমাণিত -সমাজতন্ত্রয় ভবিষ্যৎ। TINA -র বিরুদ্ধে শ্লোগান উঠেছে SITA(socialism is tha Alternitive )। আমাদের দেশে খোলাবাজারের বিষাক্ত হওয়ার তীব্রতর হচ্ছে শোষণ, নতুন নতুন ফর্মে দখলদারির ফঁাদ পাতছে বেনিয়ারা। অন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির দাপটে বিপন্ন মানুষের অর্থনীতি, অন্যদিকে শক্তিশালী হচ্ছে ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতেই আমাদের লড়াই। সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ আমাদেরই।।

সোভিয়েতের পতনের পর যারা মার্কসবাদ লেনিনবাদকে মৃত বলে ঘোষনা করেছিলেন তাদের উদ্দেশ্যে বিনয়ের সাথে শুধু বলব মার্কসবাদ লেনিনবাদ সমাজের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের উপর বিজ্ঞান সম্মত নির্ভুল মতবাদ। সোভিয়েতের পতন মার্কসবাদ লেনিনবাদকে ভুল প্রমান করেনা।বরং সোভিয়েত কম্যুনিস্ট পার্টি পরিচালনায় মার্কসবাদ লেনিনবাদকে পাশকাটিয়ে/বিচ্যুত হয়ে অামলাতান্এিক নীতিমালা অনুসরনেরই ফল।বর্তমান পুঁজিবাদি বিশ্বের অাভ্যন্তরিন সংকট সমাজতন্ত্রের যথার্থতা তুলে ধরছে।সুতরাং হতাশার কারন নেই সামনে অাপার সম্ভাবনা।প্রয়োজন সাংগঠনিক প্রস্তুতির।।

“আমরা যদি ঐক্যের আকাঙ্খাকে আমাদের যাত্রাবিন্দু হিসেবে গ্রহন করি ও সহায়ক মনোভাব অবলম্বন করি, কড়া সমালোচনা পার্টিকে বিভক্ত করতে পারবে না;তা শুধু পারে পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। ঐক্য এগিয়ে চলে সংগ্রামের ভিতর দিয়ে এবং কেবলমাত্র এভাবেই ঐক্য অর্জিত হতে পারে।”