থানার প্রধান ফটকে কোহিনুর খাতুনকে বেধড়কভাবে পেটায় পুলিশের এএসআই শাহানুর!

এবার বগুড়ার ধুনটে এক নারীকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করলো পুলিশের এক এএসআই ।পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে থানায় ডেকে নিয়ে কোহিনুর খাতুন (৪২) নামে ওই নারীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় । ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকালে। মারপিটে আহত ওই নারীকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনা জানাজানির পর ধুনট থানায় কর্মরত অভিযুক্ত পুলিমের শাহানুর রহমান নামের ওই এএসআই কে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার জাবেদ আলীর মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্ত দুই সন্তানের জননী কোহিনুর খাতুন বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সেই সুবাদে ২০০৯ সালে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে এএসআই শাহানুর রহমানের সাথে কোহিনুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কোহিনুরের দোকানে খাওয়া-দাওয়া ও তার বাসায় শাহানুর রহমানের অবাধ যাতায়াত ছিল।

ওই সময় এএসআই শাহানুর কৌশলে কোহিনুরের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এদিকে ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। এরপরই কোহিনুরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখে শাহানুর। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পাওনা না পেয়ে দুই মাস আগে এএসআই শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেয় কোহিনুর। খবর পেয়ে শাহানুুর রহমান এক সপ্তাহ আগে কোহিনুর খাতুনকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধুনট থানায় আসতে বলেন।

শুক্রবার দুপুরের পর পর কোহিনুর খাতুন পাওনা টাকার জন্য ধুনট থানায় আসে। কিন্তু এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহানুর রহমান থানার প্রধান ফটকে কোহিনুর খাতুনকে বেধড়ক ভাবে পেটায়। পরে আহত অবস্থায় কোহিনুর খাতুন ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাকে পেটাতে থাকে এএসআই শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন কোহিনুর খাতুনকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে ধুনট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোহিনুর খাতুন জানান, শাহানুর কৌশলে আমার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার থানায় ডেকে এনে তাকে পিটিয়ে আহত করেছে। তবে এবিষয়ে ধুনট থানার এএসআই শাহানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষে ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ নামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারপরও শুক্রবার থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো টাকার দাবি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছি।

এদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে সদ্যপদন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেরপুর-ধুনট সার্কেল) গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কোহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার বিবরণ বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞাঁ বিপিএমকে অবহিত করেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার অভিযুক্ত এএসআই শাহানুর রহমানকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ্ড করার নির্দেশ দেন। পরে রাতেই তাকে থানা থেকে জরুরি আদেশে প্রত্যাহার করা হয় ।

এবিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর-ধুনট সার্কেল) গাজিউর রহমান জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করে এএসআই শাহানুর রহমানকে তাৎক্ষনিক ধুনট থানা থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। সম্পাদনা : আমিন মুনশি