দুর্নীতির অভিযোগে গাজীপুর সিটির ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৬ জন চাকরিচ্যুত

বিভিন্ন ঠিকাদারের নাম করে অর্থআত্মসাৎ, ভবন নির্মাণের ব্যাগ-ডেটে প্ল্যান পাশ, মেয়র/কাউন্সিলরগণের নাম ভাঙিয়ে ফাইল আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, সহকারি প্রকৌশলী এবং ট্র্যাক্স আদায় ও নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ৬ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও ৫ জনকে শোকজ করা হয়েছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে আরও ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য জানান।

মেয়র জানান, ঠিকাদারের নাম করে সিটি কর্পোরেশনের একাউন্ট থেকে একাধিক চেকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, নিয়মবহির্ভূতভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও ফ্যাক্টরির ভবন নির্মাণের প্ল্যান ব্যাক ডেটে (পেছনের তারিখ) পাশ করে দেয়ার অভিযোগে সহকারি প্রকৌশলী মো. মোজাহিদুল ইসলাম, ফাইল আটকে মেয়র/কাউন্সিলরের নাম ভাঙিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে লাইসেন্স কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামালকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের সচিব মাহাবুব আলম, ২৪নং ওয়ার্ডের সচিব জহির আলম, ৪২নং ওয়ার্ডের সচিব মো. আক্তার হোসেন, ৩২নং ওয়ার্ডের সচিব মাহাবুবুর রহমান, ৩৪নং ওয়ার্ডের সচিব মো. নাদিম হোসেন ও ৪৯নং ওয়ার্ডের সচিব মো. মুক্তার হোসেনকে ফাইল আটকে মেয়র/কাউন্সিলরের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে চাকরি হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিটি করপোরেশনের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- কর নির্ধারণ কর্মকর্তা আতাউর রসুল ভূইয়া, অফিস সহায়ক সোহেল, কর আদায় সহযোগী কালাম, ভূমি জরিপ শাখার সাইফুল ইসলাম ও কর নির্ধারণ সহযোগী কামরুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র আরো জানান, ট্যাক্স, পানি ও বিদ্যুত শাখার আরও ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।