রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের আশ্বাসে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই:বিশেষজ্ঞদের অভিমত

রোহিঙ্গাদের ফেরানোর মতো পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে রাজি করানোর চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং৷ তবে বিশেষজ্ঞরা সেই আশ্বাসে খুব আশাবাদী হতে পারছেন না৷ ডয়চে ভেলে

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন লি খ্য ছিয়াং৷ বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ওই এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে৷যতদিন দিন যাবে এই চ্যালেঞ্জটা ততই বড় হবে৷ জবাবে চীনের প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে একমত যে, ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই এ সমস্যার সমাধান হবে৷ তারা চেষ্টা করবেন যে, দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমেই যেন এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পায় এবং চীন মিয়ানমারকে ওই ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করবে৷”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘বিষয়টি যদি আমরা কূটনৈতিকভাবে দেখি তাহলে এই ধরনের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে৷ চীন যদি আন্তরিক হয় তাহলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব৷ তবে চীনের আশ্বাসে এখনই আমাদের আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই৷ তারা আশ্বাস দিলেও আমাদের দেখতে হবে বাস্তবে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে৷ রোহিঙ্গা সমস্যাটি যে বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, সেটিও ভালোভাবে চীনকে বোঝাতে হবে৷”
১৯৮২ সালে বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি আইন পাশ হয়৷ আর তাতেই নাগরিকত্ব হারায় মুসলিম প্রধান রোহিঙ্গারা৷ জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হন৷ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় মানবিক বাংলাদেশ৷ জনসংখ্যার চাপে থাকা ছোট্ট দেশটিতে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে৷