বদরুদ্দীন উমর, পুরস্কারের চেয়ে আপোসহীনতাই পছন্দ যার!

আজফার হুসেইন, ফেসবুক থেকে, পুরস্কার? দেশে–ও বিদেশেও–দেখেছি একটা পুরস্কার পাওয়ার লোভে মানুষ কি রকম হন্যে হয়ে থাকে, লজ্জাহীনভাবে ক্ষমতাসীনদের গোলামি করতে থাকে, দেখেছি আরও কত রকম তামাশা! আর ইতিহাস নিজেই এও প্রমাণ করেছে বারবারই যে, অনেক, অনেক যোগ্য মানুষ পুরস্কৃত হন না। আবার কেউ কেউ আছেন যাঁরা পুরস্কারের ধারও ধারেন না (যেমন আমার বন্ধু নূরুল কবীর আর আনু মুহাম্মদ)।

আর আমাদের মার্কসবাদী বদরুদ্দীন উমর? পেয়েছিলেন ফিলিপস্ পুরস্কার, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পেয়েছিলেন আদমজী পুরস্কার, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পেয়েছিলেন বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কারও, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি ইতিহাস পরিষদ পুরস্কারও পেয়েছিলেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পেয়েছিলেন এমনকি একুশে পদকও, তাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বাংলাদেশের ‘শীর্ষস্থানীয়’ ও ‘লোভনীয়’ পুরস্কার একের পর এক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কমরেড উমর। একেই বলে বুকের পাটা, একেই বলে আপসহীনতা। আর বাংলাদেশে এ-এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত! ছফা ভাইর্য়ের কথার প্রতিধ্বনি করে আমিও বলব, আমি বদরুদ্দীন উমরের সময়ে বাস করি বলে গর্বিত।