একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অস্বাভাবিক ভোট, ফেমার উদ্বেগ

বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৬মাস পর প্রকাশিত কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে অস্বাভাবিক ভোট পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কমপক্ষে ১৯৭টি কেন্দ্রে এক’শ ভাগ, আর অন্তত ১ হাজার ৮৮৯টি কেন্দ্রে শতকরা ৯৫ থেকে ৯৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে । বিবিসি বাংলা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থা ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সে’র (ফেমা) প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, বিষয়টি উদ্বেগের। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোথাও ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়লেই সেখানে নির্বাচন কমিশনের আলাদা নজর দেয়া উচিৎ। তিনি বলেন, এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার। যেটা পৃথিবীতে কোথাও হয় না, সেটা এখানে চলতে পারে না। আমরা এটা দেখেছি মিলিটারি আমলে ডিক্টেটরদের সময়। যখন তারা গণভোট নিয়েছে তখন আমরা দেখেছি হান্ড্রেড পার্সেন্ট, নাইনটি পার্সেন্ট, অনেক সময় একশভাগেরও বেশি ভোট পড়ার নজিরও আছে। এটা হয় একটা অটোক্রেটিক রুলের সময়। কিন্তু এখন তো ডেমোক্রেসি। এখানে যার মন চায় সে ভোট দিতে যাবে যাবে, ইচ্ছা হলে যাবে না। তাদের ওপর তো কারো হাত নেই। তিনি আরও বলেন, সেখানে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ভোট কিভাবে পড়লো এটা ইলেকশন কমিশনেরই বের করতে হবে।

৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট বেশিরভাগ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। আর বিরোধী ২০দলীয় জোটে নেতৃত্বে থাকা বিএনপি এবং তাদের নির্বাচনী জোট ঐক্যফ্রন্ট মাত্র ৭টি আসনে জয় লাভ করে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক নৌকা ও বিরোধী দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের মধ্যে প্রাপ্ত ভোটের তারতম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। কারণ অনেক আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তুলনায় বিএনপির প্রার্থী মাত্র ১০ভাগের এক ভাগ ভোট পেয়েছে।

কেন্দ্র-ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায় বহু কেন্দ্রে বিএনপি কোনো ভোটই পায়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে শতভাগ ভোট প্রদানকে অস্বাভাবিক বলে স্বীকার করেছেন । নির্বাচন কমিশন মনে করেন গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে কিছু করার নেই। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনারদের কেউই মন্তব্য করতে রাজী হননি।

তবে কমিশন সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারও অত্যন্ত স্পষ্টই বলেছেন যে, নির্বাচন চলাকালীন বা গেজেট প্রকাশের আগে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ যদি অভিযোগ করতো তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে দেখতে পারতো। যেহেতু এ বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি তাই গেজেট নোটিফিকেশন করার পরে তার আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু কেউ যদি এটা নিয়ে এখন কথা বলতে চান তাহলে উপযুক্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা বা এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন এখন পর্যন্ত নেয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনকে বিতর্ক ও অনিয়মের ঊর্ধ্বে রাখতে সবক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনার করছে নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্বাচনে ইভিএম নিয়েও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।