ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভাঙলো বাংলাদেশের

এতোদূর এসে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হলো বাংলাদেশকে। আরও ভালো কিছু করার আশা ছিলো মাশরাফিদের। কিন্তু নাগালে পেয়েও ভারতকে হারাতে পারলো না টাইগাররা। ফলে শেষ চারে যাওয়ার আশাটাও শেষ হলো। মুস্তাফিজের ঐতিহাসিক ‘ফাইভ উইকেটস হলের’ ফাঁদে পড়ে বিরাট কোহলিরা গুটিয়ে গিয়েছিলো ৩১৪ রানে। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ৩১৫ রানের তাড়া করতে গিয়ে ২৮৬ রানেই থেমে যেতে হয়েছে সাকিবদের। ২৮ রানে হেরে এবারও শেষচারের স্বপ্ন পূরণ হলো না লাল-সবুজের সেনাদের।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান ও সাইফউদ্দীনের দাঁতে দাঁত চেপে করা প্রচেষ্টাটা শেষ পর্যন্ত বৃথা গেলো জাসপ্রিত বুমরাহ করা ৪৮তম ওভারের কাছে। অনেকদূর থেকে বাংলাদেশ দলকে জয়ের দিকে আনছিলেন সাব্বির ও সাইফউদ্দীন। সাব্বিরের (৩৬) বিদায়ের পর সাইফউদ্দীন অনবদ্য ছিলেন ৩৮ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে।

৩১৪ রানের জবাবে খেলতে নেমে দলীয় ৩৯ রানে তামিমের (২২) বিদায়ের পর ক্রিজে এলেন সাকিব। দলের ভার খুব ভালোভাবেই নিজের কাঁধে নিয়েছেন বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। তবে ক্রিজের একপাশে থেকে অন্যপাশে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখেছেন সাকিব। সৌম্য (৩৩), মুশফিক (২৪), লিটন দাস (২২) ও মোসাদ্দেকের বিদায়ের পরও চেষ্টা করছিলেন সাকিব। কিন্তু দলীয় ১৭৯ রানের সময় পান্ডিয়ার বলে কার্তিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬৬ রান করে নিজেকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় আনেন। বল হাতে ভারতের হয়ে বুমরাহ ৪টি, পান্ডিয়া ৩টি এবং চাহাল, ভুবনেশ্বর ও শামি একটি করে উইকেট নেন।

সাকিব ফেরার পর সাব্বির-সাইফউদ্দীনের ৬৬ রানের জুটি আবারও ভারত বধের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো টাইগারদের। কিন্তু সাব্বিরের বাজে শট আবারও পিছিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। কিন্তু থামেননি সাইফউদ্দীন। রুবেল হোসেনকে নিয়েও ২৯ রানের জুটি গড়ে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২ ওভার বাকি থাকতে ২৮৬ রানেই সবগুলো উইকেট শেষ হয়।

তার আগে টস জিতে রোহিত শর্মার ১০৪ এবং লোকেশ রাহুলের ৭৭ রানের পর ঋষভ প্যান্টের ৪৮ এবং শেষের দিকে ধোনির ৩৫ রানে ভর করেই ৩১৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছিলো টিম ইন্ডিয়া। ৯ রানে জীবন পাওয়া রোহিত তুলে নেন বিশ্বকাপের চতুর্থ শতক। রোহিত-রাহুলের ১৮০ রানের উদ্বোধনী জুটির কাছেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। যা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

বল হাতে মুস্তাফিজ ৫ উইকেট নেন। যা দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ উইকেট অর্জনের অনন্য কীর্তি গড়েন। তাছাড়া সাকিব-রুবেল ও সৌম্য একটি করে উইকেট নেন।