গাড়ি ছিনতাই করতেই উবার চালককে হত্যা

টয়োটা এলিয়ন ব্র্যান্ডের গাড়ি ছিনতাই করতেই উবারচালক আরমানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। গাড়ি ব্যবসায়ী এক বন্ধুকে এলিয়ন মডেলের একটি গাড়ি জোগাড় করে দিলে ৮ লাখ টাকা পাবেন- এমন প্রলোভনেই তিনজন মিলে আরমানকে হত্যা করে।

এজন্য তারা বেছে নেয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবারের গাড়িটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচবারের চেষ্টার পর উবারের কাক্সিক্ষত এলিয়ন গাড়িটি পেয়ে যায়। উত্তরার নির্জন স্থানে নিয়ে সুযোগ বুঝে উবারচালককে গলা কেটে হত্যা করে তারা। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় লাশ গাড়িতে রেখেই তিন খুনি পালিয়ে যায়।

শনিবার রাজধানীসহ আশপাশের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে আরমান হত্যা মামলার ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরা হল- সিজান (২৪), শরিফ (১৯) ও সজীব (২০)। এর মধ্যে সিজান দু-একবার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বাকি দুইজন নতুন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যার বর্ণনাও দেয় তারা। রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত তুলে ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতার তিনজনই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পরিকল্পনা মতো চালককে হত্যা করা হলেও গাড়িটি নিতে পারেনি তরা। ১৩ জুন রাত ২টায় রাজধানীর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে একটি বাড়ির সামনে গাড়ির ভেতর থেকে আরমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন উত্তরা পশ্চিম থানায় নিহত চালকের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন হত্যা মামলা করেন। আরমানের গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীর ফতে মোহাম্মদপুরে।

ডিবি জানায়, ১৩ জুন রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল সিজান, সঙ্গে ছিল ঘাতক শরিফ ও সজীব। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সিজান প্রথমে তার রামপুরার বাসার ছাদে শরিফকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজায়। পরে শরিফ তার বন্ধু সজীবকেও এই পরিকল্পনায় যুক্ত করে। তারা ছিনতাইয়ের জন্য চালককে হত্যা করতে একমত হয়। সিজানের এক বন্ধু খুলনায় চোরাই মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার কেনাবেচা করে। সেই বন্ধু বলেছিল, এলিয়ন গাড়ি দিতে পারলে নগদে ৮ লাখ টাকা দেবে।

এই টাকার লোভেই তারা হত্যার পরিকল্পনা সাজায়। হত্যাকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি জানায়, ঘটনার দিন তারা তিনজন সন্ধ্যায় রিকশায় করে নিউমার্কেটে যায়। নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের পাশে একটি দোকান থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে দুটি সুইচ গিয়ার চাকু কেনে। ১১টার দিকে তারা প্রথমে একটি উবারে কল করে। গাড়িটি এলিয়ন না হওয়ায় তারা তা বাতিল করে দেয়। এভাবে পাঁচবারের চেষ্টায় উবারের একটি এলিয়ন গাড়ি পায় তারা। গাড়িটি ছিল আরমানের। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরমান পূর্বরামপুরা ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ওই তিনজনকে গাড়িতে তোলে।

সিজান গাড়ির সামনে চালকের পাশে বসে, শরিফ পেছনের আসনে বসে এবং সজীব পেছনে বাঁ পাশে বসে। তারা উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ৭১ নম্বর বাড়ির কাছে নির্জন রাস্তায় গাড়িটি নিয়ে যায়। বিল পরিশোধ না করে আরমানকে অপেক্ষা করতে বলে। গাড়িটি থামানোর পর তারা হত্যার সুযোগ খুঁজতে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চারদিক নিরাপদ মনে করে সিজান ইশারা করে। পরে শরিফ পেছনের সিট থেকে আরমানের মাথার চুল পেছনের দিকে টেনে ধরে সুইচ গিয়ার (চাকু) দিয়ে গলা কেটে ফেলে।

ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে তারা গাড়ি থেকে নিচে নেমে দাড়ায়। আশপাশের অবস্থা অনুকূল না দেখে তারা গাড়ি রেখেই পালায়। গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি সুইচ গিয়ার চাকু ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত সেই গাড়ি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
৩ জন রিমান্ডে : এদিকে আরমান হত্যা মামলায় তিন যুবকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ আসামিদের রিমান্ডের এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন- আবিদ আল সিজান, শরিফ, ও সজীব। প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মেহেদী হাসান।