স্বাধীনতার প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা, ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলনঃ★★★ মোশারেফ হোসেন মন্টু।

ইতিহাস যে যেভাবেই বলেন বা বলার চেষ্টা করেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু ও ঘোষনা কোন রাজনৈতিক দল বা নেতাদের মাধ্যমে হয়নি হয়েছে ছাত্র ও যুব সমাজের মাধ্যমে নিউক্লিয়াসের পরিকল্পনায়।)

১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ও ৩রা মার্চ এই দুইটি দিন আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন গুলো নিয়ে বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোন আলোচনা সভা করা হয়নি। এই গৌরবজনক দুটি ঘটনার নায়ক ছাত্র ও যুব সমাজ, আর নেপথ্য নায়ক ৬২ সালে গঠিত “স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস”। সে সময়কার বড় বড় রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দরকষাকষি নিয়ে যখন ব্যস্ত ঠিক সে সময়ে এই দুটি অনন্য দিক নির্দেশনামূলক ঘটনা – ক্ষমতার মোহে বিভোর নেতাগণ অনেকটা বেকায়দায় পড়ে যায়, তারপরও আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ২৫শে মার্চ ক্র্যাক-ডাউন পর্যন্ত অপেক্ষা করে ছিলেন। যদিও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে ২রা মার্চে পতাকা উত্তোলন ও ৩রা মার্চে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ যে স্বাধীনতার পরিপূর্ণ ঘোষণা ছিল তার স্বপক্ষে ইঙ্গিত ছিল অত্যন্ত অর্থবহ। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ সভামঞ্চে উঠার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান-এর কণ্ঠে আমরা শুনতে পাই –
“বাঁশের লাঠি তৈয়ার কর,বাংলাদেশ স্বাধীন কর”।
“তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা”।
“তুমি কে? আমি কে বাঙালি বাঙালি “।
“জয়বাংলা, জয়বাংলা” ইত্যাদি।
যদিও এখন ৭ই মার্চের ভাষণ বাঁজানো সময় এই অংশটি বাদ দিয়ে দেখানো শুনানো হয়।
৭ই মার্চের জনসভার মাঠ স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রধান সিরাজুল আলম খান এমন ভাবে পরিকল্পনা করে
ছাত্র- শ্রমিক ও যুব-নেতাদের প্রস্তুত করেছিলেন, যেন আজই বঙ্গবন্ধুর মুখে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা বাহির হয়। বঙ্গবন্ধু সরাসরি পতাকা উত্তোলন ও ইশতেহার পাঠ এর মাধ্যমে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণার কথা কিছু না বললেও সবাইকে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন এবং আলোচনার রাস্তাবন্ধ করেন নাই।
আজকে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্লজ্জ ভাবে টানাটানি করে তখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত ও কলঙ্কিত হয়।
ইদানীং আবার কিছু কিছু মানুষ ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলন কে পতাকা প্রদর্শন বলতে চান! এটি কোন আনুষ্ঠানিক উত্তোলন ছিলনা, তখনকার সময়ে কোন পরিস্থিতি ও সময়ে এই পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য।
আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে যে আজ “পতাকা উত্তোলন” করা হবে ঘোষণা থাকতো পাকিস্তানি সরকার আগেই সব ম্যাচাকার করে ফেলতো এবং সবাইকে মেরে ফেলতো, হয়ত বাঙালি জাতি চিরকালের জন্য এই পতাকাটি বাংলার আকাশে দেখতে পেত না। প্রশ্ন হল তখনকার সব ছাত্রনেতাবৃন্দ কি রাজি হতেন বা সম্মতি দিতেন উপস্থিত থাকতেন ? যদি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে অনুমোদনের প্রশ্ন আসতো তিনি বা শুধুমাত্র ক্ষমতালিষ্পু আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে অনুমতি দিতে কি?
স্বাধীনবাংলা নিউক্লিয়াস অত্যন্ত সুকৌশলে এই কাজটি কখন কাকে দিয়ে করতে হবে সে কাজটি সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তি দিয়ে করেছেন। এখন কেহ কেহ এই ইতিহাসকে বিকৃত ও কলঙ্কিত অথবা মুছে ফেলার জন্য উত্তোলন না প্রদর্শন এই কথাটি সামনে নিয়ে আসতে চান।
২রা মার্চ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের * প্রথম ঘোষণা।
৩রা মার্চ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের *পরিপূর্ণ চূড়ান্ত ঘোষণা এতে কাহারো দ্বিমত থাকার কথা নয় । তবে ৭ই মার্চ ২৬ ও ২৭ শে মার্চ এর ঘোষণা সমূহ পূর্ববর্তী ২রা ও ৩রা মার্চের প্রথম ও চূড়ান্ত ঘোষণাকে অনুসরণ করেছে মাত্র। (পড়ালেখা জানা সচেতন মানুষ গুলি বিষয়টি পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্ন ভাবেই বুঝেন এবং জানেন)
যদি এই দুটি ঘটনার পর তখনকার নির্বাচিত আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের পাকিস্তানি সরকারের সাথে যে কোন ধরনের সমঝোতা বা বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতেন অথবা স্বাধীনতার আন্দোলন ব্যর্থ হতো,তখন পাকিস্তানি সরকার স্বাধীনতার পক্ষের নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ, পতাকা উত্তোলক, ইশতেহার পাঠক সহ স্বাধীনতার পক্ষের নেতৃবৃন্দকে পাকিস্তানি সরকার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে ফাঁসির রশি গলায় লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতো। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যে সকল নেতৃবৃন্দ- মহান স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করার মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করেছেন সেই সকল নেতৃবৃন্দকে আমরা স্যালুট করি এবং সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। বিশেষভাবে মহান স্বাধীনতার রূপকার জনাব সিরাজুল আলম খান, মহান স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক জনাব আ স ম আবদুর রব, মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক জনাব শাহজাহান সিরাজ কে আমরা বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানাই- স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল দৃঢ় পদক্ষেপ এবং অনন্য ভূমিকার জন্য। (ফেইসবুক থেকে)