টঙ্গী-বিশ্বনাথে ৫ শিশু ধর্ষিত, ফেনীতে কিশোরীকে গণধর্ষণ

টঙ্গীতে টাকার টাকার লোভ দেখিয়ে চার শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিলেটের বিশ্বনাথে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সিএনজি চালক ধর্ষণ করে। এছাড়া ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী থেকে জানান, টঙ্গীতে টাকার লোভ দেখিয়ে চার শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক জসিম উদ্দিনকে (৫৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। এদের মধ্যে একই পরিবারের দু’জন ও অন্য পরিবারের দুই শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই টঙ্গীর বনমালা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বরিশাল জেলার কর্ণকাঠি গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।
সে স্থানীয় বনমালা টেকপাড়া এলাকায় মুদি দোকানের ব্যবসা করে আসছে। ধর্ষিতার পরিবারের লোকজন অভিযোগে জানান, মাত্র ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে দত্তপাড়া বনমালা এলাকায় গত সোমবার থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে একে একে চার শিশুকে ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। তবে বৃহস্পতিবার সর্বশেষ শিশুটিকে ধর্ষণ করলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত জসিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ধর্ষিত চার শিশুকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাষণ্ড জসিম ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, সিলেটের বিশ্বনাথে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী মুফতিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ উঠেছে গত বুধবার চৌধুরীগাঁও গ্রামের আবুল কাহার (২৮) নামের এক বখাটে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক তাকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার পিতা রিকশা চালক ইরান মিয়া তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধর্ষক আবুল কাহার চৌধুরীগাঁও গ্রামের মৃত মরম আলীর ছেলে। তবে, স্থানীয় মাতবররা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইরান মিয়া জানান, দীর্ঘদিন থেকে তিনি চৌধুরীগাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুস শুকুরের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। বুধবার বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পর তার ঘরের পাশে থাকা টিউবওয়েল ঘরে নিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করে আবুল কাহার। পরে তিনিসহ পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

ফেনী ও পরশুরাম প্রতিনিধি জানান, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণের অভিযোগে পরশুরাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান আসামি সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. রাসেল ওই উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাহার মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

পরশুরাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল এজাহারের বরাত দিয়ে জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বুধবার সন্ধায় ওই তরুণীকে পূর্ব সাহেবনগর গ্রাম (তরুণীর বড় বোনের বাড়ি) থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে কৌশলে মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামের জনৈক কামাল ডাক্তারের বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। রাসেল ও আরো কয়েকজন সহযোগী ওই তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করে। বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রামের লোকজন ফজরের নামাজ পড়তে যাবার সময় ওই তরুণীর চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে রাসেলসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরো জানায়, ওই তরুণীর বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ সতের গ্রামে। ওই তরুণী পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়িতে আসা যাওয়ার সময়ে সিএনজি অটোরিকশা চালক রাসেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তরুণীর পরিবার রাসেলসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানার মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। নির্যাতিত তরুণীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জনিয়েছে।