স্ট্যালিনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

এখন থেকে মাত্র বছরখানেক আগেই মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা অলিভার স্টোনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ স্ট্যালিন সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে ‘অতি দানবীয়’ বানিয়ে ফেলা হয়েছিলো। একইসাথে, স্ট্যালিন সম্পর্কে যেকোনও সমালোচনাই রাশিয়ার বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও সতর্ক করে দেন পুতিন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পুতিনের পিতামহ ঘটনাক্রমে স্ট্যালিনের বাবুর্চি ছিলেন এবং পুতিন নিজেও এর আগে স্ট্যালিনকে একজন ‘অসাধারণ নেতা’ বলে প্রশংসা করেছিলেন। স্ট্রেনজার্স গাইড

রাশিয়ায় পুতিনই একমাত্র নন যিনি ১৯২৪ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন কট্টরপন্থী শাসক স্ট্যালিনকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চান বরং গত এক দশকে স্ট্যালিনের প্রতি বিশ্বব্যাপী মানুষের আগ্রহ ও সহানুভূতি দৃশ্যমানহারে বেড়েছে। তবে এখানে প্রশ্ন একটিই, কেন?

সমাজতন্ত্র ভেঙে পড়ার একবছর আগে ১৯৯০ সালে জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র ৮ শতাংশ রুশ স্ট্যালিনকে পছন্দ করতো। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে এই হার অবিশ্বাস্যরকম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৪ শতাংশে। আবার ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, ৪৬ শতাংশ রুশ নাগরিক স্ট্যালিনকে পছন্দ করেন, সম্মান করেন। তাদের মতে, তারা এই মনোভাব এমন একজন নেতার জন্য অনুভব করেন যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের দেশের বিজয়ে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। একইসাথে যিনি অতিদ্রুত তাদের দেশকে শিল্পোন্নত করার ক্ষেত্রে গতিশীল নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৩১ সালে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে দেশের জনগণকে সম্পদ নির্মাণে উৎসাহিত করতে স্ট্যালিন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমরা কি আমাদের সমাজতান্ত্রিক পিতৃভূমিকে হেরে যেতে এবং এর স্বাধীনতা হারাতে দেখতে চাও? যদি তা না হয় তবে, হয় ধ্বংস হতে হবে নতুবা এগিয়ে থাকা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলতে হবে।’

অর্ধশতাব্দী পর রাশিয়ার জনগণের এক বড় অংশ ধীরে ধীরে স্ট্যালিনের শাসনামলের ঐতিহাসিক সাফল্যগুলোকে সামনে আনতে শুরু করেছেন।