৩৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, গত ৩৮ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ সময়ে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ জন। শনিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য বেগম লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। বাজেট অধিবেশনের কারণে শনিবার ছুটির দিনেও সংসদের অধিবেশন বসে। ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী সংসদে শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকা তুলে ধরেছেন। এই শীর্ষ ৩০০ ব্যক্তির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। এ তথ্য ছাড়াও ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার ঊর্ধে ঋণ গ্রহীতার তালিকাও জানিয়েছেন। এর সংখ্য ১৪ হাজার ৬১৭ জন। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ঋণ গ্রহীতাদের প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।

লুৎফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলেও ডাটা ওয্যারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের অক্টোবরে আগের সময়ে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান। তিনি জানান, এরফলে লুৎফুন নেসার প্রশ্নের জবাবে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি ও তাদের ঋণের পরিমাণ সংসদকে জানানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অক্টোবর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।