২ কোটি টাকা না দেয়ায় আমার পদ স্থগিত হয়েছে, বললেন মাসুদা চৌধুরী

জাতীয় পার্টির পদ স্থগিত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী বলেছেন, দলের কোনো দাপ্তরিক চিঠি আমি পাইনি। সংবাদিকদের কাছে শুনেছি আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পদ স্থগিত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় মনোনয়নের সময়ের চুক্তির বাকি টাকা না পেয়ে এমন কাজ করছে দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা। চুক্তি অনুযায়ী রাঙাকে ৫ কোটি টাকা দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু মনোনয়নের সময় তাকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা দিয়েছি বাকি রয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এই টাকার জন্য বার বার চাপ দিয়ে টাকা না পেয়ে এই কাজ করেছেন।

মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী বলেন, আমি স্যার (এরশাদ) এর সঙ্গে কথা বলব। আমি ৩৬ বছর ধরে দল করি। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। দীর্ঘ সময় মহিলা পার্টির সভাপতি ছিলাম। সারাদেশে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেবেন বলে মনে হয় না। আমি স্যার ও ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করব। আমাকে বিপদে ফেলার জন্য এমটা করেছে মশিউর রহমান রাঙা।

এ বিষয় অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার শানজিদ রশিদ চৌধুলী বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের জন্য ৮ সদস্যের কমিটির সামনে ইন্টারভিউ হলো তাতে আমার আম্মু প্রথম হলেন এবং তাকে মনোনিত করা হলো। ওইদিন রাতে আমাকে মহাসচিবের পিএস তার সঙ্গে দেখা করতে বললেন। আমি দেখা করতে গেলাম তখন মশিউর রহমান রাঙা বললেন, দেখ স্যার (এরশাদ) তো অসুস্থ্য, তিনি মারা গেলে দল চলবে কিভাবে। আমরা যারা নির্বাচিত এমপি তারা ২ কোটি টাকা করে আর ৪ জন মহিলা এমপির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা করে নিয়ে একটি ফান্ড করা হবে যা দিয়ে দল চলবে। আমি তাকে বললাম রাঙা মামা এটা আমার জন্য বেশি হয়ে যায়, তখন তিনি আমাকে প্রকাশ্যে বললেন, তাহলে আমরা মেহেজেবিন মোরশেদকে দিয়ে দেব। তখন আমি তাকে বলি চিন্তা করবেন না আমি দেব তখন তিনি বললেন যে অন্তত অর্ধেক টাকা তো দিতে হবে এবং বললেন তুমি ভেবে দেখ, কালকে জানাও। আমি রাতে জিএম কাদেরের বাসায় গেলাম তিনি আমার সঙ্গে রাগ করলেন, বললেন তুমি কেন রাঙাকে টাকা দিতে গেলে। কোনো টাকা পয়সা দিবে না।

তিনি বলেন, মনোনয়ন ঠিক হলে রাঙা আমাকে চাপ দিচ্ছিলেন টাকার জন্য তখন আমি বললাম মামা আমাকে একটু সময় দেন তখন তিনি বললেন তাহলে চেক দাও আমি তাকে ৫ কোটি টাকার চেক দিলাম। সবাই ৫ কোটি টাকা দিয়েছে শুধু সালমা ইসলাম বেশি দিয়েছেন। এছাড়া রাঙা যে অঙ্গীকার নামার কথা বলে সেটা দলের মনোনয়ের সময়ের এবং কোন স্ট্যাম্পে কোন স্বাক্ষর দেননি। এর পরে স্যারের (এরশাদ) কাছে গিয়েছিলাম তিনি বলেছেন মাসুদা কোন টাকা দেবে না। পরে যখন টাকার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছিল তখন আবার আমি স্যারের কাছে গেলাম তখন তিনি বললেন রাঙা কারো কথা শুনছে না এমনকি কাদেরকেও পাত্তা দিচ্ছে না। ওকে কোন টাকাই দিবা না। এর মধ্যে মানব কন্ঠের সাংবাদিক ফোন দিয়ে বলল আপার নামে একটি চিঠি ইস্যু হয়েছে তখন আমি বললাম আমরা কোন চিঠি পাইনি। ওই সময় সেই সাংবাদিক আমাকে ইমোতে কপিটি পাঠিয়েছে। ঈদের পর গত বৃহস্পতিবার ম্যাডামের সামনে সংসদে রাঙা বলেন, মামি উনি সব করছে তখন মা রেগে গিয়ে বলছেন আপনি নিজেকে কি ভাবেন, আপনি বিএনপি করতেন। আমার নামে কেন পত্রিকায় নিউজ আসবে ? সেটা নিয়ে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কী হয় তখন মহাসচিব ম্যডামের সামনে বলছেন রোববার দিন বুঝবেন ঠ্যালা। তখন রওশন ম্যডাম বললেন মাসুদা তুমি গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দাও আমি তোমার স্যারের সঙ্গে কথা বলব।

দলের চাঁদার বিষয় তিনি বলেন, কোন চাঁদা বাকি নেই। রাঙ্গা মনে করছে তার আর দলে পদ থাকছে না তাই উনি বাকি টাকা নিয়ে কেটে পড়তে চায়। এরশাদ টাকা দেয়ার জন্য না করছে তখন কি আর টাকা দেয়া উচিত বলেন।