জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার এবং মূল্যস্ফীতি ভালো হলেও বিনিয়োগ খুব দুর্বল, বললেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ আয়ের মানুষকে অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন এ বাজেটে গরীব এবং প্রান্তিক লোকজন খুব একটা উপকৃত হবে না। শুক্রবার সিপিডি’র কার্যালয়ে বাজেট পর্যালোচনায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই। এটা অনেকটা আশ্বাসের মতো। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারের উপর যে চাপ ছিল সেটা প্রশমনের ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে আগে চেয়ে বরাদ্দ কমে গেছে। এটা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী হয়নি। বাজেটের স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন হয়নি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সপ্তম-পঞ্চ বার্ষিকীতে এসে তুলনা করে দেখা হচ্ছে যে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ও মূল্যস্ফীতির দিক থেকে আমরা মোটামোটিভাবে ভালোর দিকে আছি। কিন্তু সাধারণভাবে বিনিয়োটা খুব দুর্বলভাবে আছে। তার মূল কারণ হলো ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ চাঙ্গা না তার জন্য। একই ভাবে সঞ্চয়ের হারের দিক থেকেও দুর্বল।

তাছাড়া বড় তিনটি সূচক রেমিটেন্স, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং রপ্তানি এই তিনটি খাতে উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই কিন্তু সপ্তম পঞ্চম বার্ষিকীর কাছেও যায়নি কেউ।

তিনি বলেন, যে বিষয়টি আমাদের বেশ চিন্তায় রেখেছে তা হলো প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের যে মুদ্রার মূল্যমান তারা অবলম্বন করবে কিনা। তাহলে তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় দুর্বল অবস্থায় চলে যাবো।

তিনি আরো বলেন, অর্থমন্ত্রী চেষ্টা করেছেন বাস্তবতার নিরিখে বাজেটটি করতে। তিনি সামনে যা দেখছেন তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অবলোকন করে দেখছেন। এটিই হলো বাস্তবতার লক্ষণ। এটিকে আমরা খারাপ বলছি না। কারণ বাড়িয়ে বলার চেয়ে বাস্তবতার নিরিখে নিরুপন করাটাই সঠিক বলে মনে করি।

কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে এই বাস্তব চিন্তাটিকে অর্থমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা দেখার বিষয়। সম্পাদনা : এইচ এম জামাল