আসিয়ানের প্রতিবেদন ফাঁস মিয়ানমারের প্রশংসা বাংলাদেশকে দোষারোপ

বাংলাদেশে আশ্রিত ৫ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আগামি দুই বছরে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিবে বলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে আশা করা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপনস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’। এ রিপোর্ট আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। তুর্কি দৈনিক সাবাহ এএফপি’র ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ ও সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অত্যাচার, এমনকী অত্যাচারিত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নাম উল্লেখ না করে আসিয়ানের প্রতিবেদনটিতে তাদের বলা হয়েছে মুসলমান জনগোষ্ঠী। সূত্র : সাবাহ অনলাইন।

রাখাইন থেকে বিদ্রোহ নির্মূল করার জন্যে ২০১৭ সালে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণসহ সহিংসতা ও নিপীড়ন চালায়। এ দমন নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে নতুন করে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ দেখে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা সে দেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ‘গণহত্যা’র অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৫ লাখ, যা বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম। ‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপেট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ শিরোনামে প্রণীত প্রতিবেদনে ওই প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করার কথা উঠে এসেছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। ২০১৮ সালের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অথচ বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তির পরও রাখাইনে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুলডোজারে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের নজির। তবে আসিয়ানের অবস্থান সম্পর্কে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘সহজ ও সুশৃঙ্খল’ আখ্যা দিয়ে এর প্রশংসা করা হয়েছে। নেপিদোর সুরে সুর মিলিয়ে এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের পেপারওয়ার্কজনিত দুর্বলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।