বীর মুক্তিযোদ্ধা মুছব্বিরের মৃত্যু নয় ,একটি নক্ষত্রের পতন

চলে গেলেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আরো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী অধিনায়ক মোঃ আব্দুল মুছব্বির সেক্টর নং ৪/৪-১৯৭১ বিয়ানীবাজার সিলেট ।

গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছি এই বীর সন্তানকে। তাঁর অনেক পরিচয় আছে কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয় – তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ কারনে সমগ্র জাতি মহান এই বীরসন্তানকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করা উচিৎ।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় জাতির এমন একজন বীর সন্তানের মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছে খুবই গুরুত্বহীনভাবে । বিয়ানী বাজারের কোন কোন পত্রিকা প্রকাশ করেছে অত্যন্ত দায়সারাভাবে । শোকবাণী এসেছে অতি কার্পন্যভরে । দলীয়ভাবে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতার কোন উপস্থিতি নেই ।

যেহেতু আব্দূল মুছব্বির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাই তার মৃত্যুতে, আওয়ামী লীগ এবং ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিপুল মানূষের বিশাল প্রতিক্রিয়া থাকার কথা । মুক্তিযোদ্ধা তো মুক্তিযোদ্ধা । মুক্তিযোদ্ধার আবার দল কীসের । তাঁরা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান ।

সমৃদ্ধ বিয়ানীবাজারের এক অনন্য কৃতিসন্তান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুসব্বিরের জীবন সফল ও সার্থকতায় বৈচিত্র্যময় । তিনি বিয়ানীবাজার কলেজের প্রথম ভিপি , প্রথম ছাত্রলীগ সভাপতি, ও আওয়ামী যুবলীগের ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ।

বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে তার কৃতিত্ব ও সাংগঠনিক তৎপরতায় তৎকালিন আওয়ামীলীগের যে জয়যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন তা আজও অব্যহত আছে । কিন্তু তাঁর মত এত নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ নেতৃত্ব আজও দলের কাছে একটি উদাহরণ। তাঁকে অতিক্রম করার সাধ্য কারও নেই ।

তিনি দীর্ঘদিন আমেরিকার মিশিগানে বসবাস করেন । সেখানেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যাপকভাবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন ।

তিনি মিশিগান আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও মিশিগানে অবস্হিত ‘বিয়ানী বাজার সমিতি’র সভাপতি ছিলেন । এছাড়া “যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের” কমান্ডার ছিলেন তিনি । তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন ।

একজন সফল রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক হিসেবে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জনাব আব্দুল মুসব্বির “জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব মিশিগান ইনক্ এর উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন । তাছাড়া তিনি ” ফুটবল ফেডারেশন অব আমেরিকা ইনক্ এর সহ-সভাপতি ছিলেন ।

মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতিটি মানূষ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, জয়বাংলার সৈনিক। জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধে আপামর বাঙালি জনতার এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা যার কন্ঠে বঙ্গবন্ধুর নাম এবং ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান উচ্চারিত হয় নাই। সুতরাং অন্ততঃ মরনের পরে শেষ বিদায়ের পর দলমত নির্বিশেষে জাতির মহান সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সন্মান ও শ্রদ্ধা পোষন করার মতো উদারতাটুকু দেখানো উচিৎ।

আর এ জন্য আওয়ামীলীগকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু পুলিশের চৌকস দলের অভিবাদন নামক জাতীয় সম্মান দিয়েই একজন মুক্তিযোদ্ধার মরণোত্তর দায়ীত্ব শেষ হয় না।

তাঁর জন্য দরকার আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন পজন্মের কাছে তাদের জীবনের প্রতিটি সাহসী ভুমিকা তুলে ধরতে হবে । মুক্তিযুদ্ধে তাদের অসীম আত্মত্যাগ বীরত্বগাঁথা কাহিনী তুলে ধরে তাদেরকে যথাযোগ্যভাবে সম্মানিত করা একান্ত দরকার ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিয়ানীবাজারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মুছব্বির । বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পুরুষপাল জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তার জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।

এর আগে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের একটি দল মরহুম মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহকে গার্ড অব ওনার প্রদান করেন। পরে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

মরহুমের জানাজার নামাজে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন । বাংলার বীবসেনানী বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মুছব্বির মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টায় মাথিউরা ইউনিয়নের পুরুষপাল গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মধ্যদিয়ে পতন হল বিয়ানীবাজারের আরও একটি নক্ষত্রের ।
লেখক :সমশের আলম