সিলেটের রাস্তা :দোয়ারায় কাদায় ভরা সড়ক, ভোগান্তি

দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে কাদা আর কাদা। তার মধ্যে আবার কোথাও জমে রয়েছে পানি। এই অবস্থাতেই রাস্তায় বেরিয়ে বাজারঘাট, জরুরী কাজ করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। ছোট ছোট ছোলেমেয়ে স্কুলেও যাচ্ছে। কেউ কেউ উল্টে পড়ছে। সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বৃহত্তর লক্ষীপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর-আলীপুর-নূরপুর এক কিলোমিটার রাস্তার জন্য হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এই সড়কে দিয়ে হাওরপারে চাষকৃত মাছ ও সবজি জেলাশহরে বিক্রির জন্য বাজারজাত করতে এই রাস্তাটির ওপর নির্ভর করতে হয়। পার্শ্ববর্তী সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আলীপুর মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা আসা যাওয়া করে থাকে। বর্তমানে বৃষ্টির কাদামাটি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আলীপুর-নূরপুর রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, টিআর, কাবিখা বা কাবিটা কত প্রকল্পের বরাদ্দ আসছে আর শেষ হচ্ছে। কিন্তু এই রাস্তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা জুড়ে হাঁটু সমান কাদা থাকায় সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। রাস্তার আশপাশের ঘরবাড়ির মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দী জীবন যাপন করছেন। বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই রাস্তা দিয়ে হাওরে গবাদিপশু বিচরণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

এব্যাপারে নূরপুর গ্রামের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব শান্ত বলেন, ‘এমনিতেই এখানে সারাবছর কাদা থাকে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পরায় এলাকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারছেনা। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।’

মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘নূরপুর, সোনাপুর ও নন্দীগ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারছেনা শুধু এই রাস্তার কারণে। বর্তমান বর্ষা মৌসুম এই তিন গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার শূণ্য থাকে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে এই রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণে দাবি জানাই।’

আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৎসচাষী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, ‘শুধু এই রাস্তার কারণে এখানকার উৎপাদিত মাছ ও সবজি জেলা শহরে বাজারজাত করতে বাড়তি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

এছাড়া অধিক সময়ও ব্যয় হচ্ছে। এই রাস্তা পাকা করা হলে হাওরপারের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে এবং মৎসচাষ ও ব্যবসার প্রসার ঘটবে।’

সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশীদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের এই রাস্তাটির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। এবিষয়ে বেশ কিছুদিন আগে আমি একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলাম। স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ও অবগত আছেন এবং উনার সাথে আমার আলাপ হয়েছে। এব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আন্তরিক। জানতে পেরেছি রাস্তার এই বেহাল অংশসহ প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পাককরণ এখন টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টেন্ডার হয়ে গেলে শিঘ্রই রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।’